নিজস্ব প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার স্ট্রিট লাইট স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় পূর্ব পরিচিত পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি পৌরসভার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের একটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে ই-জিপিতে (e-GP) দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান Energion Bangladesh Ltd. দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দর প্রদান করায় প্রতিষ্ঠানটি বাদ পড়ে।
এরপর ওই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় দরপত্র উন্মুক্ত করা হলে ই-জিপি মূল্যায়নে Energion Bangladesh Ltd. ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলী। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তারা মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পছন্দের ঠিকাদারদের পাইয়ে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে জনমুখে আরও জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদের সঙ্গে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অলিখিত অংশীদারিত্ব রয়েছে। অন্যদিকে, তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সহকারী প্রকৌশলী তানভীরের বিরুদ্ধেও উক্ত স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের কাজ Energion Bangladesh Ltd.-কে পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন , সহকারী প্রকৌশলী,তানভীর, বদলি হওয়ার পরও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ই-জিপি মূল্যায়নে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে পুনরায় আহ্বান করা দরপত্রে কাজ পাওয়ার জন্য অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এ নিয়ে দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা এবং পুনঃদরপত্র আহ্বানের কারণ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। এছাড়াও তালিকায় ১ম থেকে ৫ম অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও পূর্ববর্তী কাজের মানের দিক থেকে ভালো হওয়া সত্ত্বেও ৬ষ্ঠ অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির টেন্ডার এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ই-জিপির সম্পূর্ণ দরপত্র নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র বাতিলের কারণ এবং পরবর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১ম থেকে ৫ম অবস্থানে থাকা যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে ৬ষ্ঠ অবস্থানে থাকা পূর্বপরিচিত পছন্দের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ দেওয়ার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করছি।
Leave a Reply