সানজিদ হক স্টাফ রিপোর্টারঃ মরহুম আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা আব্দুল আজিজ (রহ) (রকেট হাফিজ নামে প্রসিদ্ধ)
জন্ম:
১৯৪৪ সালে , রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
জন্মস্থান:
মুন্সিবাড়ি, পাঠানপাড়া ১ নং কাদির জঙ্গল ইউনিয়ন, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।
পিতা মাতা:
পিতা: কিসমত মুন্সী, মাতা : সৈয়দা বানু,
ভাই বোন: চার ভাই ও দুই বোন এর মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়, চার ভাই কোরআনে হাফেজ।
শিক্ষাজীবন:
সর্বপ্রথম পড়াশোনা দামে মসজিদ মক্তবে, কোরআন শরীফ পড়া শুরু করেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ উনি হাফেজি শেষ করেন ১৯৫০ সালে, আজহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ:) তার সহপাঠি ছিলেন, সারা বাংলাদেশ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন, ১৯৬২ সালে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন লালবাগ মাদ্রাসা থেকে, কামেল পাশ করেন হায়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসা থেকে।
রকেট হাফেজ উপাধি:
১৯৫২ সালে সারা বাংলাদেশে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করা হয় এবং সুন্দর ও স্পষ্ট কুরআন তেলাওয়াত করায় বিশেষ বিশেষ আলেম-ওলামাগণ হযরত মাওলানা আতহার আলী (রহ:) ও এরকম বড় বড় আলেম-ওলামাগণ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সেই সময় তার কোরআন তেলাওয়াতের গতি ও সুন্দর স্পষ্ট ভাবে কোরআন পড়ায় সকলে মিলে উনাকে উপাধি দিয়েছিলেন “রকেট হাফিজ”।
বৈবাহিক জীবন:
৩টি বিবাহ করেন, ছয় ছেলে আর দুই মেয়ে। কর্মজীবন:
সর্বপ্রথম তারাবি কোরআন ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদে, একাধারে ২০ বছর তারাবি পরান কালিয়াচাপরা সুগার মেইলে, চাকরি করতেন হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসায়, কিছুদিন চাকরি করার পর চলে যান, নান্দাইল চৌরাস্তা বারুইগ্রাম মাদ্রাসায়। হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল হক সাহেব ওনার সাথে ধানমন্ডি জিগাতলা ঢাকা মসজিদে তারাবি পড়ান ১২ বছর, তখন শিক্ষক ছিলেন ওই মাদ্রাসায়, তারপর আবার চলে আসেন বাড়ইগ্রাম মাদ্রাসায়, ১৯ ৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে জামে মসজিদে নামাজ পড়ান, শিক্ষক ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ২বছর, তারপর চলে যান নুরুল্লাহ হুজুর উনার নিজ বাড়িতে আলিয়া মাদ্রাসায় পাছদুরিল্লাহ,নান্দাইল। তারপর চলে আসেন পুনরায় বাড়ি গ্রাম মাদ্রাসায়, ২০০০সালে, তারপর চলে যান মিরপুর ১৪ নাম্বার ইব্রাহিমপুর হাবিবুল্লা রোড, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে মসজিদে তারাবি পড়াতেন, ২০০৪ সালে ১৮/রায়ের বাজারে একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করতেন, তার জীবনে প্রায় ১০টি মসজিদ ও ৮টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষ তিনি, ভৈরব জগন্নাথপুর দারুস সালাম জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন, ২০২২সাল পর্যন্ত, তিনি ২০২০সাল পর্যন্ত ২০ রাকাত তারাবি পড়াতেন, সর্বশেষ তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান সমূহ তত্ত্বাবধান করতেন।
শেষ জীবন:
২০১০ সালে তিনি হৃদরোগ আক্রান্ত হন বিভিন্ন ডাক্তার দেখানোর পরে এভাবেই চলতে থাকে দিন। ১২-১২-২০২২সালে রোজ বুধবার সময় রাত ৮টা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন।
সারা বাংলাদেশে তার হাজার হাজার কুরআনের হাফেজ ছাত্র আছেন। আমরা সকলেই দোয়া করি রব্বে-কারীম যেনো দ্বীনের এই মহান খাদেম কে জান্নাতে আলা মাক্বাম (মর্যাদাপূর্ণ স্থান) দান করেন।
Leave a Reply