ফরহাদ আহমেদ:
ফেনী সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ‘জারিকারক-৪’ নম্বর কক্ষে বসে জসিম নামের এক বহিরাগত ব্যক্তির দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তার। ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিক আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো পুরো ঘটনাটিকে “ভুয়া প্রচার” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। একই সাথে তিনি সংবাদকর্মীর নিকট লিখিত অভিযোগ দাবি করেছেন। প্রশাসনের এমন ভূমিকায় স্থানীয় সচেতন মহল এবং সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— সরকারি দপ্তরে এমন প্রকাশ্য অনিয়মের দায় কি এসিল্যান্ড এড়াতে পারেন?
গত ১০ জুন, ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক আমার সংগ্রাম’ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, সরকারি কর্মচারী না হয়েও জসিম নামের ওই বহিরাগত ব্যক্তি নির্বিঘ্নে সরকারি কক্ষ ও কম্পিউটার ব্যবহার করছেন এবং আর্থিক লেনদেন চালাচ্ছেন।
প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তারের কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে ওনার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন এবং কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেন এবং একে “ভুয়া প্রচার” বলে দাবি করেন। একই সাথে নিজের দপ্তরের ভেতরের অনিয়ম খতিয়ে না দেখে, ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাতে এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেই উল্টো লিখিত অভিযোগ দাবি করেন তিনি।
জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীদের প্রশ্ন, যেখানে সরকারি দপ্তরের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা এবং কক্ষের ভেতরে কী ঘটছে তা তদারকি করার মূল দায়িত্ব খোদ সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র, সেখানে ভিডিও প্রমাণের পরও তিনি কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? একজন সংবাদকর্মীর কাজ হলো সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি সংবাদ আকারে তুলে ধরা, কোনো দপ্তরের হয়ে লিখিত অভিযোগকারী বা মামলার বাদী হওয়া নয়।
সচেতন মহলের মতে, ভিডিও ফুটেজে অপরাধের দৃশ্য পরিষ্কার থাকার পরও খোদ কার্যালয়ে গিয়ে প্রশ্ন করার পর একে “ভুয়া প্রচার” বলা এবং লিখিত অভিযোগের অজুহাত তোলা মূলত মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া অথবা নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র। সরকারি অফিসের পবিত্রতা নষ্ট করে বহিরাগতদের এমন দাপটের পেছনে ভূমি অফিসের আর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন গভীর অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
Leave a Reply