রফিকুল ইসলাম রতন: পুলিশ ৬টি শুটার গান, ১টি একনলা বন্ধুক দেশী রাইফেলসহ চাটখিলের মনির হোসেন (৩৫) নামের এক সন্ত্রাসীকে সীতাকুন্ডে গ্রেফতার করেছে। মনির হোসেন নোয়াখালী জেলার চাটখিলের ২নং রামনারায়নপুর ইউনিয়নের সোবাহানপুর গ্রামের কৃষ্ণার বাড়ীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে শুক্রবার মাইক্রোবাসে করে অস্ত্র চালান নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী আসার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে বাশবাড়িয়া এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় অস্ত্র সহ আটক করে। এসময় পুলিশ বরিশালের বন্দর থানার ইছামতি ইউনিয়নের কাঞ্চন ঢালির ছেলে মোঃ মানির (৪৫) কেও আটক করে। শনিবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাসেল সাহেব সংবাদিক সম্মেলন করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অস্ত্র গুলি মহেষখালীতে তৈরি করা হয়। এগুলো বিক্রি এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য মাইক্রোবাসে করে আনা হচ্ছিল। মনির হোসেন লক্ষিপুরের বশিকপুরের শীর্ঘ সন্ত্রাসী আল-আমিন গ্রপের এবং রামনারায়নপুরের সন্ত্রাসীগুপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র চালান আটক ও মনির আটকের সংবাদে এলাকার লোকজনের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।মনিরের বাড়ী চাটখিলের দক্ষিণ সীমান্তবার্তী এলাকা। এলাকার রামনারায়নপুর ও খিলপাড়া ইউনিয়ন এবং পাশবর্তী এলাকা সমূহে সন্ত্রাসীদের আকড়ায় পরিনত হয়েছে। এলাকার ৮/১০ জন সন্ত্রাসী রয়েছে। এ সব সন্ত্রাসীর ১৫/২০ জনের করে গ্রপ রয়েছে। রয়েছে ১৫/১৬টি কিশোর গ্যাংগ, এদের নিকট রয়েছে বিশাল অস্ত্রের ভান্ডার ও দেশী অস্ত্র সশ্র। এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ সব অস্ত্র মজুদ করে রেখেছে। এদের একজন করে অভিভাবক রয়েছে একেক এলাকায়। তিনি লক্ষীপুর এবং চাটখিলের সন্ত্রাসীদের সমন্বয় এবং মাঝে মধ্যে একত্রিত হয়ে গাইড লাইন দিয়ে থাকেন। এলাকায় প্রতিনিয়ত হামলা, ভাংচুর, অপহরণ ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংগঠিত হচ্ছে। তাছাড়া নাহারখিল গ্রামের যুবদলের নেতা জাবের হোসেনের সংবাদ এখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ তাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। দীর্ঘ ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও এ বিষয় কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। নাহারখিল গ্রামের রুপালী ব্রিক ফিল্ড দাখলেরও অভিযোগ উঠেছে। আইন শৃংখলা বাহিনী এই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।চাটখিল উপজেলার ০৭ নং হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন এর বিভিন্ন স্পটে ও সন্ত্রাসীদের হামলা, মোহড়া চলতেছে। এরই মাঝে রমাপুর, বক্তারপুর মোল্লার হাটখোলা সহ পূর্ব গোবিন্দপুরে গত ৪/৫ দিন হতে চলছে চরম সন্ত্রাসী হামলা ও হুন্ডা মোহড়া।এলাকার ৮৬ বছরের বৃদ্ধ জনাব সাইদুর রহমানকে ১লা মে বাদ আসর নুর আলমের মুঠোফোন থেকে কল করে দেখা করতে বললে তিনি নুর আলমের উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হলে সামান্য সামনে হাজীবাড়ী মসজিদ এর সামনে পৌঁছালেই সন্ত্রাসীরা সাইদুর রহমানকে মারধর শুরু করে। এতে মসজিদের মুসল্লিরা ও মসজিদ সংলগ্ন হাজী মহসিন এর বাসার মহিলারা চিৎকার দিতে থাকলে সাইদুর রহমান এর পরিবারএসে সন্ত্রাসীদের থেকে তাকে উদ্দার করেন। চাটখিলএর স্হানীয় প্রশাশন এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বিভিন্ন গণমাধ্যম জানান, বিভিন্ন এলাকায় সস্ত্রাসী গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিমূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে, বাট সাইদুর রহমান এর বিষয়ে নিরব রয়েছেন । ইতি মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Reply