নোমান হোসেন আখন্দ : শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজী হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে শংকরপুর গ্রামের কাজী বাড়িতে এই দূধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ন কবির বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ন কবিরের সাথে তার প্রতিবেশী এ সময় একই এলাকার কাজী অনিক, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল, আব্দুল মন্নান, কাজী অন্তর, কাজী ঐশ্বর্য, কাজী ইসমাইল সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭:জন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। এর আগেও অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ওই মুক্তিযোদ্ধার সম্পতি দখলের অপচেষ্টা ও পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল।
সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ন কবির তার নিজ বাড়ির সীমানায় টিনের বেড়া মেরামত করতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ১নং সাক্ষী মো. মহিউদ্দিন মিলনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া তারা বাড়ির ফলদ গাছ কেটে ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় প্রাণের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা ঘর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ন কবির বলেন, “আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, কিন্তু আজ নিজ বাড়িতেই আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করছি।”
শাহরাস্তি থানা পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply