1. dailyamarsongram71@gmail.com : Abu Yusuf : Abu Yusuf
  2. admin@dailyamarsongram.com : admin :
  3. shoyebmahmud08@gmail.com : Abul Kalam : Abul Kalam
  4. kazimaviation@gmail.com : Office Staff : Office Staff
  5. mdjakir349@gmail.com : Md. Jakir Hossain : Md. Jakir Hossain
  6. akazzad1@gmail.com : Abul Kalam : Abul Kalam
  7. msareza0075@gmail.com : Md Reza : Md Reza
  8. mizanamarsongrambd@gmail.com : Mizanur Rahman Chowdhury Tulu : Mizanur Rahman Chowdhury Tulu
  9. dailyamarsongrambd@gmail.com : Head Office : Head Office
May 31, 2026, 11:03 pm
শিরোনাম :
তরফপুর ইউনিয়ন বিজ্ঞান ক্লাব ও পাঠাগারের উদ্দ্যোগে মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৪ এর চলছে রেজিষ্ট্রেশন। মহান বিজয় দিবস ও ও বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সরোয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা। কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু সোনারগাঁয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহজালালের নতুন এটিসি টাওয়ার: তিন মাসে আয় প্রায় ২০০ কোটি কেরানীগঞ্জে অজ্ঞাত বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়লেন যেসব তারকা ১৭ বছর পর স্বাধীনভাবে নেতাকে স্মরণ করার সুযোগ হয়েছে : মির্জা ফখরুল মানবিক সাংবাদিকতায় রাহাত খান আঁখিকে সম্মাননা পঞ্চগড়ে জমি বিরোধে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের থানায় অভিযোগ করায় এক দম্পতিকে দ্বিতীয় দফার হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন : দেশে দেশে

  • সময়: Wednesday, March 12, 2025
  • 64 View

মাগুরায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আট বছরের এক মেয়েশিশু। ধর্ষক বড় বোনের শ্বশুর। হিটু শেখ নামের ওই লম্পট আট বছরের শিশুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কল্পকথার দৈত্যদানোর মতো। নিষ্পাপ শিশুটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। বাংলাদেশে এ ধরনের ধর্ষণ প্রতিনিয়তই ঘটছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের শিকার নারীদের শতকরা এক ভাগও আইনের আশ্রয় নেয় না আরও বেশি লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে। অদ্ভুত এই দেশে ধর্ষকরা অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি’ করার কৃতিত্বও প্রচার করে।

স্বীকার করতেই হবে দুনিয়ার কোনো দেশ কোনো সমাজ নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ নয়। আমেরিকানদের বিশ্বাস, তারা বিশ্বের সবচেয়ে উদার ও সুশীল সমাজের অধিকারী। উদার মনোভাবের জন্যই তারা চায় বাদবাকি বিশ্বও তাদের মতো সভ্য হোক। সারা দুনিয়ায় সুশীল সমাজ গড়ে উঠুক। নারীর মর্যাদা যেহেতু সভ্যতার মাপকাঠি, সেহেতু সারা দুনিয়াকে সভ্য বানাতে মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকানদের উৎকণ্ঠার শেষ নেই। গাঁটের টাকা খরচ করে হলেও তারা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। নারীর মর্যাদা সমুন্নত করা ও তাদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে মার্কিন প্রশাসন এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছে। রংবেরঙের এনজিওগুলোকে দিয়ে তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা চলছে।

মজার ব্যাপার হলো, সভ্য সমাজের নিশান বরদারের ভূমিকা পালনকারী আমেরিকায় নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা মর্যাদা কোনোটাই প্রশ্নাতীত নয়। আমেরিকানরা সারা দুনিয়ায় নারীবাদী ভূমিকা পালন করলেও তাদের দেশেই গর্ভপাতকে সরকারিভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশ ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনে গর্ভপাতে সহায়তাদানকারী জন্মনিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর জন্য সাহায্য বন্ধ করে দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো এ বিষয়ে আরও বেশি রক্ষণশীল। আমেরিকান সমাজের উচ্চপর্যায়েও নারী নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটে তা পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর জন্যও লজ্জাদায়ক।

সাবেক প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের কন্যাও ছিলেন নির্মম নির্যাতনের শিকার। রিগ্যানকন্যা মোরিনার বিয়ে হয়েছিল ওয়াশিংটনের এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। একসময়ের গায়িকা ও অভিনেত্রী মোরিনা নিজেই বলেছেন, তাঁর দুর্ভোগের কথা। তাঁর ভাষায়, ‘১৯৬১ সাল। আমার বয়স তখন ২০। আমি আমার চেয়ে ১০ বছরের বেশি বয়স্ক এক ব্যক্তিকে বিয়ে করি। আমার প্রথম স্বামী আমাকে নিষ্ঠুরভাবে প্রায় প্রতিদিনই প্রহার করত। তার শারীরিক অত্যাচারের জন্য আমি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিলাম। কোনো কোনো রাতে আমার প্রতি শারীরিক অত্যাচার শুরু না হলেও আমি জেগে অপেক্ষা করতাম কখন শুরু হবে। অত্যাচারের মধ্যে কিল, ঘুসি, লাথি, চপেটাঘাত ছিল নিয়মিত ব্যাপার। আমি তার ভয়ে সর্বদা ভীত অবস্থায় বাস করতাম।’

মোরিনা তাঁর জবানিতে বলেছেন, ‘সে দিনটার কথা আমার আজো মনে পড়ে। বরফ পড়ছে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য রাস্তায় গাড়ি ও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমার কর্মস্থল থেকে বাড়িতে পৌঁছাতে এক ঘণ্টা দেরি হলো। আমার স্বামী অত্যন্ত রেগে গেলেন। সন্দেহ করলেন, আমি অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে যতই বোঝাই সে আরও বেশি রেগে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আমাকে সে কিল, ঘুসি মারতে লাগল। আমি অবাক হয়ে গেলাম ও প্রতিবাদ করার শক্তি হারিয়ে ফেললাম। চোখমুখে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলাম। আমি সে রাতে ঘুমাতে ব্যর্থ হই। তবু পরদিন সকালে খাবার টেবিলে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু ফল হলো উল্টো। গ্লাস দিয়ে সে আমার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করল।’ মোরিনা বলেছেন তাঁর স্বামী এক রাতে তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মেঝেতে ফেলে পেটাতে থাকে এবং বলে, ‘কোনো পুরুষই আর তোর দিকে ফিরে তাকাবে না।’ বিস্ময়কর হলেও সত্যি, মোরিনা স্বামীর অত্যাচার সম্পর্কে তাঁর পিতা প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানকে জানানো সত্ত্বেও তিনি মেয়ের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাননি।

যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার সুপ্রতিষ্ঠার দাবি করা হলেও নারী সেখানে পণ্য হিসেবেই বিবেচিত। এ দেশটিতে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনে নারীকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়, তা কোনোভাবেই মায়ের জাতির মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিচায়ক নয়। লাম্পট্যের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জনএফ কেনেডির খ্যাতির বিষয়টি অনেকের জানা। ক্লিনটন-মনিকার কেচ্ছাও জানে দুনিয়ার কয়েক শ কোটি মানুষ। ট্রাম্প নামের যে মহাপুরুষ এখন আমেরিকার শাসনক্ষমতায় তিনি তো বহু কোটি ডলার জরিমানা দিয়েছেন লাম্পট্যের কারণে।

মিসরে নিযুক্ত ব্রিটিশ কূটনীতিক লর্ড ক্রোমার মনে করতেন, মুসলমান সমাজে নারীরা বঞ্চনার শিক্ষার। মহিলাদের নেকাব ব্যবহারের তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি। ১৮৮৩ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত লর্ড ক্রোমার ছিলেন মিসরে কূটনীতিকের দায়িত্বে। তিনি মনে করতেন, হিজাব সভ্যতা বিকাশের অন্যতম অন্তরায়। লর্ড ক্রোমার মিসরকে সুসভ্য দেশ বানাতে হিজাব উচ্ছেদের পরামর্শ দেন। অথচ দেশে ফিরে এই কূটনীতিক মহিলাদের ভোটাধিকার ঠেকাতে ‘মেন্স লিগ’ বা পুরুষদের দল নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। মুসলিম দেশগুলোর নারী অধিকার নিয়ে হইচই করলেও মার্কিনিদের পিতৃভূমি ইংল্যান্ডে ১৯ শতক পর্যন্ত নারীরা পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। নারী নির্যাতনকে পুরুষের অধিকার হিসেবে ভাবা হতো। ইউরোপে সে সময় নারী নির্যাতনের যেসব পদ্ধতি ছিল তাকে বর্বরতা বলে অভিহিত করলেও কম বলা হবে। আমরা প্রাচীন আরবের আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগের কথা জানি। কিন্তু সেখানেও নারী নির্যাতনের এমন বীভৎস পদ্ধতি চালু ছিল না, যা ১৯ শতক পর্যন্ত ইউরোপে অনুসৃত হয়েছে। সেখানে অবিশ্বস্ত স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য ব্যবহৃত হতো ‘ব্রেস্ট কিপার’ নামের একটি লোহার নখওয়ালা হাত। যা দিয়ে নারীর স্তন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে জিঘাংসা পূরণ করা হতো। ইউরোপের ধর্মযাজকরা একসময় কোনো নারীকে সন্দেহ করলেই তাকে ডাইনি ঘোষণা করতেন। সন্দেহভাজন সে নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হতো।

মুসলিম দেশগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগের শেষ নেই। আমেরিকান দূতরা এ বিষয়ে খোলাখুলিভাবেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। কিন্তু সার্বিক বিচারে যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলো কি এদিক থেকে খুব এগিয়ে? পরিসংখ্যান বলে তৃতীয় বিশ্বের কোনো কোনো দেশে নারীর ক্ষমতায়নে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও যেসব নজির স্থাপিত হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বে তা সম্ভব হয়নি। যদি প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে? এ প্রশ্নের জবাবে নিশ্চিতভাবে উচ্চারিত হবে শ্রীলঙ্কার শ্রী মাভো বন্দরনায়েকের নাম। তাঁর কন্যা চন্দ্রিকা বন্দরনায়েকে কুমারাতুঙ্গা দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধানমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেছেন। তাঁকে সর্বকালের সেরা মহিলা রাজনীতিক হিসেবেও অভিহিত করেছে পশ্চিমা গণমাধ্যম। পাকিস্তানকে রক্ষণশীল মুসলিম দেশ হিসেবে অভিহিত করা হলেও সে দেশেও বেনজীর ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেছেন একাধিকবার। আর বাংলাদেশ তো এদিক থেকে অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। দুই দশক ধরে আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার পদটি অলংকৃত করেছেন ঘুরেফিরে দুজন নারী নেত্রী। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে আর কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রী পদ নারীর দখলে থাকেনি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত কোনো নারী দেশের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হবার সুযোগ পাননি।

বহির্বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নের সোল এজেন্ট বলে নিজেদের জাহির করলেও আমেরিকানরা স্বদেশে পুরোমাত্রায় পুরুষতান্ত্রিক। শিক্ষাদীক্ষায় মার্কিন নারীরা পিছিয়ে না থাকলেও পুরুষরা সে দেশের শীর্ষ পদগুলোতে কোনো রকম ছাড় দিতে নারাজ। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্তত দুজন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনে জয়ের পেছনে তাঁদের স্ত্রীর ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এঁদের একজন জন এফ কেনেডি। যাঁর স্ত্রী জ্যাকুলিনের ভাবমূর্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র জোড়া। বলা হয় কেনেডির জয়লাভের পেছনে জ্যাকুলিনের ভূমিকা ধন্বন্তরির ভূমিকা রেখেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্যের গভর্নর ক্লিনটনকে যখন ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেয়, তখন তাঁর চেয়ে স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ছিলেন অনেক বেশি পরিচিত। ক্লিনটনের জয়লাভের পেছনে হিলারির পরিচিতি প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য নারীর অভাব না থাকলেও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের জন্যই হিলারি ও কমলা হ্যারিসের মতো নারীরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন  পেয়েও হেরেছেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে।

আমাদের পশ্চিমা বন্ধুরা মুসলিম নারীদের অধিকার নিয়ে বেশ সোচ্চার। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হলে তার  পেছনে নাকি ‘কিন্তু’ থাকে। ইসলাম ১৪০০ বছর আগে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা মাত্র ১০০ বছর আগেও পশ্চিমা সমাজে ছিল অকল্পনীয়। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত আয়েশা (রা.) উটের পিঠে চড়ে যুদ্ধ পরিচালনা করে প্রমাণ করেছেন ইসলামে নারীরাও নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার রাখেন। ইসলামি আইনে পিতার সম্পত্তির ওপর কন্যাসন্তানদের অধিকার প্রথম থেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত। নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইসলাম যতটা কঠোর তার নজির অন্য কোনো ধর্মে নেই। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে সংকট রয়েছে, তা এক প্রতিষ্ঠিত সত্য।

পশ্চিমা সমাজ নারীর মর্যাদাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা আমেরিকার লাসভেগাস শহরের দিকে তাকালেই উপলব্ধি করা যায়। এ শহরটি কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত। লাসভেগাস পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নগ্ন রমণী শিকার অভিযানের জন্য। যারা জীবনেও কোনো দিন বন্দুক হাতে পশুপাখি শিকার করে দেখেননি, তারাও অতি সহজে অংশ নিতে পারেন এই রমণী শিকারের খেলায়। এজন্য অবশ্য পকেটে থাকতে হবে হাজার হাজার ডলারের নোট। এয়ারগান দিয়ে বেলুন শুট করার মতোই যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষরা রমণী শিকারের পদ্ধতি বের করেছে। এ মজার খেলায় শিকারি পুরুষের হাতে থাকে বন্দুক বা এয়ারগানের বদলে পেইন্ট গান। নগ্ন নারীদের গুপ্ত অঙ্গকে ধরা হয় টার্গেট আর সর্বোচ্চ পরিধি থাকে বুক পর্যন্ত, কাক্সিক্ষত জায়গায় ঘণ্টায় দুই কিলোমিটার বেগে পেইন্ট গান দিয়ে বল ছোড়া হয়। লম্পট পুরুষদের জন্য ‘মজার’ এই খেলায় টার্গেট মতো বলের আঘাত করার জন্য দিতে হয় ২ হাজার ৫০০ ডলার। ব্যর্থ হলেও এ অর্থদণ্ড থেকে রেহাই নেই। শিকার রমণীরা পেইন্ট গান দিয়ে ছোড়া গুলি বা বলের আঘাতে কিছুটা ব্যথা পেলেও টাকার জন্য তা নীরবেই হজম করে। রমণী শিকারের এ খেলা নিয়ে সারা বিশ্বে ঝড় উঠেছে। সমালোচনার মুখে ‘চ্যানেল-এইট’ ইতোপূর্বে এক ভাষ্যে মন্তব্য করেছে এই খেলা কয়েকজন রমণীকে অন্তত যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। এর বদৌলতে তারা বেশ কিছু ডলার আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। নতুবা তাদের হয়তো দেহ বিক্রি করেই জীবিকা অর্জন করতে হতো।

-নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার মার্কিন স্টাইল বটে।

লেখক : শহিদুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক,

দৈনিক আমার সংগ্রাম

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত ও সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews