মোঃ আনছার ইসলাম :
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ। মামলা দায়েরের ক্ষোভে পরদিন ভোরে ওই দম্পতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুনরায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। বর্তমানে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত শরীরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার ১নং অমরখানা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে প্রথম দফা হামলার পর থানায় মামলা হলে, বুধবার (২৭ মে) ভোর সকালে দ্বিতীয় দফায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফারাজউদ্দীনের ছেলে ভুক্তভোগী মোঃ হাসান আলীর (৫০) সাথে একই এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলেদের দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে হাসান আলী তার নিজ বাড়ির উঠানে টিনের বেড়া বাঁধার কাজ করার সময় প্রতিপক্ষ মোঃ রেজাউল করিমের হুকুমে অন্য আসামিরা লাঠিসোটা ও ধারালো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। হাসান আলীকে বাঁচাতে তার স্ত্রী মোছাঃ সহিদা (৪৫) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি দম্পতিকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ৩টি ফলন্ত সুপারি গাছ কেটে এবং ঘর মেরামতের জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ২ বান টিন লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের পথও অবরুদ্ধ করে দেয়।
থানায় মামলা ও পরদিন ভোরে নৃশংস প্রতিশোধ
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই ভুক্তভোগী হাসান আলী বাদী হয়ে চারজনকে সুনির্দিষ্ট এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ সোহেল রানা (২৭), মোঃ রাজু (৪০), মোঃ ইব্রাহিম (৩৫) এবং মোঃ রেজাউল করিম (৪৫)।
মোঃ হাসান আলী (ভুক্তভোগী) “আমাদের প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মামলা করায় বুধবার ভোর সকালে অভিযুক্তরা এবার সরাসরি আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা চালায় এবং পুনরায় ব্যাপক লুটপাট করে।
দ্বিতীয় দফার এই প্রাণঘাতী হামলায় দম্পতি মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু মামলা করার পর আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply