মধ্যে আছ। তোমার বাবা- মা শুনলে খুব কষ্ট পাবে। এমন কি স্ট্রোকও করতে পারে। তুমি আমাকে ওয়াদা দাও, আজ থেকে এই ভুল পথ থেকে সরে আসবে। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে তা শুক্তির কল্পনাতীত ছিল। কিংকর্তব্যবিমূঢ় শুক্তিও বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরে প্রতিশ্রুতি দিলো, সে ভুল পথ থেকে সরে আসবে।আনুপের বাড়ি থেকে ফেরার পথে শুক্তির বিষণ্ণ বদন দেখে আনোয়ারা জিজ্ঞেস করল কী হয়ছে? বুবু একা নিয়ে তোমাকে কী বলেছে?শুক্তি- সেটি বলা যাবে না।আনোয়ারা – যাগগে, তোমরা শাশুড়ি – বউয়ের কথায়আমাদের নাক গলানোর কী আছে। এত কিছু ঘটে গেল। আনুপ তার কিছুই জানে না।আনুপ কল্পনায় সাইকেলের কেরিয়ারে বসে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, এই মাসের শেষ শুক্রবার বিকেলে শুক্তির বাড়ি অতিক্রম করার সময় শুক্তি উঠানে দাঁড়িয়ে তার কর উপরে তোলে দুই আঙ্গুল ফাঁক করে ভি চিহ্ন দেখিয়ে ভাল রেজাল্টের জন্য উইশ করছে। কাঙ্ক্ষিত সেই শুক্রবার আসলো। বিকলে সাইকেলযোগে খোরশেদ সমেত আনুপ শুক্তির বাড়ি অতিক্রম করল। কিন্ত শুক্তির দেখা মিলল না। খানিকক্ষণ পর ঘুরে আবার বাড়ির সামনে দিয়ে ধীরে সাইকেল চালিয়ে ফিরল। না। শুক্তির ছায়াও দেখা গেল না।আনুপ খোরশেদ কে বলল, কোন অসুখ- বিসুখ হয় নাই তো।পরের মাসেও একই অবস্থা।আরো দু একবার খোরশেদকে ছাড়া আনুপ একা গিয়ে দেখেছে কিন্তু শুক্তি নামের স্বপ্ন দেখানো সেই মেয়েটির দেখা আর মিলেনি।আনুপের কল্পনার রাজ্যে সদা বিরাজমান শুক্তি আর শুক্তি। সে ভাবে হয়তো তার দেখা আর কখনো মিলবে না। এজন্যই কি কাজী নজরুল ইসলাম লিখে গেছেন, ” নারী শুধু ইঙ্গিত, সে প্রকাশ নয়। সমুদ্রের জলে আমরা যতটুকু নামতে পারি, নারীর মাঝেও ডুবি ততটুকুই। সে সর্বদা রহস্যের পর রহস্য-জাল দিয়ে নিজেকে গোপন করেছে- এই তার স্বভাব। ওদের অনুভব করো, দেখো কিন্তু ধরতে যেয়ো না”।কিন্তু আজকে আমার ধরতে যাওয়ার চিন্তা করা তো দূরের কথা, দেখাও মিলছে না। আনুপ কিছুদিন বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত ছিল। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নতুন আঙিনা, নতুন পরিবেশ, নতুন বই এবং নতুন শিক্ষক- শিক্ষিকার জীবন গড়ার স্বপ্নময় লেকচার শুনে ধীরেধীরে বিষণ্ণতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো। নবোদ্যমে মনোনিবেশ করল পড়ালেখায়। পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা আনয়নে শুরু করল টিউশনি ও মৎস্য চাষ। দেখতে শুরু করল জীবন গড়ার স্বপ্ন।লেখকমোহাম্মদ আইয়ুব
অফিসার ইনচার্জ
কদমতলী
থানা
ডিএমপি ঢাকা
৩০/০১/২০২৫ ইং
Leave a Reply