আমিন আহম্মেদঃ
বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩ইং, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলা ফজল ও করমে বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হতে শুধু মনে ভয় তাবলিগ জামাতের বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। এই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের প্রায় ১০৮ দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

সাধারণত প্রতিবছর শীতকালে জানুয়ারি মাসে এই ইজতেমা হয়ে থাকে । ইজতেমা এবার দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম পর্বে আলমি শুরার মাতাহাতে পরিচালিত হবে জানুয়ারির -১৩,১৪ ও ১৫ এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারির -২০,২১ ও ২২
তাই এই নভেম্বর মাসের শুরু থেকে মাঠ তৈরির কাজে ব্যস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ।
১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতি বছর এই সমাবেশ নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার রমনা পার্কসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে ইজতেমা হয়, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে রমনা উদ্যানের পরিবর্তে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ওই বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেওয়ায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান অবধি ‘বিশ্ব ইজতেমা’ টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীরসংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু জমি মিলিয়ে ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম-শহর-বন্দর থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশের তাবলিগি দ্বীনদার মুসলমান জামাতসহ ৩০ থেকে ৪০ লক্ষাধিক মুসল্লি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ইসলামি মহাসম্মেলন বা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন।
মাওলানা ইলিয়াস [রহ.] ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করেন।
আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রাহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়জন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় তা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিনি বাড়তে থাকে তাবলীগের প্রচার-প্রসার ও ব্যাপকতা। তাবলীগের সাথী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীতে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়।
তৎকালীন সময়ে মাওলানা আব্দুল আজিজ (রাহ.) বাংলাদেশে ইজতিমার হাল ধরেন। তখন থেকেই বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা আরম্ভ হয়।
Leave a Reply