নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানীর আবাসন খাতে জালিয়াতির এক অভিনব ও ভয়ঙ্কর জাল বিস্তার করেছে ‘সফটল্যান্ড ডেভলপার কোম্পানি লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পরিচিত ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম যিনি এলাকায় ‘ভন্ড সেলিম’ নামেই পরিচিত। রাজউকের নতুন ড্যাপ গ্যাজেট জারির পর পুরোনো নিয়মে প্ল্যান পাসের ভুয়া ছাড়পত্র দিয়ে তিনি অর্ধশতাধিক চলমান প্রকল্পের অনুমোদন হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন নারী চক্রের সদস্য লিন্পা।সার্ভার হ্যাকিং ও জালিয়াতির বিষয় অনুসন্ধানে জানা যায়,এই সেলিম ২০২৩ সালে রাজউক সার্ভার হ্যাকিং চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন।এ ঘটনায় রাজউক মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম ফেরারি আসামি ছিলেন তিনি।নিজেকে প্রকৌশলী দাবি করলেও বাস্তবে তিনি একজন ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার। রাজউকের নতুন নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পুরোনো নিয়মে অবৈধভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক প্ল্যানের ছাড়পত্র ও অনুমোদন নিয়েছেন,যা পুরোপুরি আইনবহির্ভূত।
বনশ্রীতে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বনশ্রী এলাকায় পুরোনো নিয়মে বাড়ির প্ল্যান পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৬০০ জন সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই চক্র। পরবর্তীতে সদস্যরা রাজউকের ছাড়পত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান সেগুলো সম্পূর্ণ জাল। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে সেলিম আত্মগোপনে রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মাদক ও নারীর আসর এবং অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে,প্রকল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে এবং ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ম্যানেজ করতে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মদ ও নারীর আসর বসাতেন সেলিম। তার এই অপকর্মের সঙ্গী হিসেবে লিন্পা নামের এক নারী প্রতি রাতেই এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।ক্ষতির মুখে জমির মালিক ও ক্রেতারা ভুয়া ছাড়পত্র ও অবৈধ প্ল্যানের কারণে জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতারা ভবিষ্যতে কোটি কোটি টাকার আইনি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুরোনো নিয়মে প্ল্যান পাসের লোভ দেখিয়ে এভাবে আরও ১০-১৫টি প্রকল্প থেকেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভন্ড সেলিম।ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, রাজউক, এনবিআর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এই জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখলে এই চক্রের আসল রূপ বেরিয়ে আসবে। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে রাজউক ও দুদকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই প্রতারক চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ।
Leave a Reply