সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তাদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচারের দাবি ভুক্তভোগীর
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আতলাশপুর (বেলতলা) এলাকার মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে দোলন ভূঁইয়াকে গত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হত্যার উদ্দেশ্যে দলবদ্ধ হয়ে মারাত্মক কুপিয়ে জখম করা পতিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখনো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। শুধু তাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ন্যায্য আইনী প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা চান ছাত্রদল কর্মী দোলন ভূঁইয়া।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দোলন ভূঁইয়া। তাঁর মেধা, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে ছিলেন একজন সামনের সারির নির্ভীক সৈনিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবুও নীতি ও আদর্শ থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি তিনি। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে।
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের আতলাশপুর এলাকার কাওসার ভূঁইয়া ও তাঁর পিতা- আওলাদ ভূঁইয়ার নির্দেশে গত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের আতলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ফেরদৌস বারী ও ইসরাফিল গং নৃশংস হামলা চালিয়ে দোলন ভূঁইয়াকে হত্যাচেষ্টা করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা ভূলতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যাঁর নম্বর : ৯/৩৬৫ এবং ৬/১/২০২৪।
আওয়ামী লীগ আমলের সেই সন্ত্রাসীরা এখনো অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং মামলার বাদীপক্ষকে নানারকম হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও জানা যায়। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে এই সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু সন্ত্রাস ও নিরীহ মানুষকে অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ আদায়সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে এই ফেরদৌস বারী ও ইসরাফিল গং। তাদের বিরুদ্ধে এখনো প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন দলের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ছাত্রদল কর্মী দোলন ভূঁইয়া।
বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের একাধিক সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর অত্যন্ত আস্থাভাজন কর্মী দোলন ভূঁইয়া। স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের অধীনে সকল কর্মসূচিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি-নির্ধারণ অনুসরণ করে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচ্ছেন দোলন ভূঁইয়া।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে যেভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিলো, তাতে তাঁর বেঁচে থাকাটা ছিলো চরম অনিশ্চয়তা। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে? সেই প্রবাদটিকে বাস্তবে পরিণত করেছেন দোলন ভূঁইয়া। গত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া সেই অমানবিক নির্যাতন ও নৃশংস হামলার বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
নিজের দল ক্ষমতায় এলো, অথচ এখনো ন্যায়-বিচার থেকে বঞ্চিত তিনি। দোলন ভূঁইয়ার ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীরা এখনো সক্রিয় থেকে এলাকায় সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সহযোগী রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের আতলাশপুর এলাকার কাওসার ও তাঁর পিতা আওলাদসহ তাদের ঘনিষ্ঠ লোক ফেরদৌস ও ইসরাফিল গংদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছেন এই ছাত্রদল কর্মী দোলন ভূঁইয়ার।
Leave a Reply