মোঃ আলামিন ভূঁইয়া:
নিজস্ব প্রতিনিধি :ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া এলাকার জিরানী কাজী অফিসে অনিয়মের মাধ্যমে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জিরানী এলাকার একটি কাজী অফিসে ওই কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেয়েটির প্রকৃত বয়স ১৩ বছর হলেও জন্মসনদে বয়স বাড়িয়ে দেখিয়ে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এভাবে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। কিন্তু তা উপেক্ষা করে কাজী অফিসে এ ধরনের শিশুবিবাহ সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলেন, কিছু অসাধু দালাল ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এমন ঘটনা ঘটছে, যা শিশুদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, শিশুবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। সরকার শিশুবিবাহ বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানান তারা।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, Child Marriage Restraint Act 2017 অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অমান্য করে বিয়ে সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
Leave a Reply