মোঃ মাসুদ বিপ্লব ঠাকুরগাঁও থেকে:বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ বরণকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে বইছে উৎসবের আমেজ। গতকাল শনিবার (১২ এপ্রিল ) শহরের প্রতিটি প্রান্তে সাজসাজ রব, আর তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জেলা জজ কোর্ট চত্বরে অবস্থিত শতবর্ষী বটগাছ। এই ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষতলে নিক্বন সংগীত বিদ্যালয় আয়োজন করছে তাদের ৫৪তম বর্ষবরণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করা নিক্বন প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে।
বর্ষবরণ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও হাতে নিয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি, পথনাটকসহ নানা রকম কর্মসূচি। শহরের প্রধান সড়কগুলো রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে, আর উৎসবমুখর জনতা অপেক্ষা করছে নতুন সূর্যোদয়ের।
বর্ষবরণ উৎসবে আরও থাকছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার—দই-চিড়া, পান্তা-ইলিশ, আলু ভর্তা আর সরষে ইলিশের ভুঁড়িভোজ। স্থানীয় রেস্টুরেন্ট এবং খাদ্য বিক্রেতারা এই বিশেষ দিনকে ঘিরে প্রস্তুত করছেন বাহারি আয়োজন।
এবারের নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে তরুণদের মাঝে রয়েছে বিশেষ উন্মাদনা। সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এই প্রথম বার উন্মুক্ত পরিবেশে তারুণ্যের জয়গান ও সাংস্কৃতিক মুক্তির উল্লাস নিয়ে পালিত হচ্ছে নববর্ষ। জনতার অংশগ্রহণ, সংস্কৃতির অনুরণন ও গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণে এবারের নববর্ষ হয়ে উঠেছে এক অনন্য মাইলফলক।
জেলার প্রশাসন নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও অংশগ্রহণকারীদের সেবা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ করছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষরা বলছেন, “এই নববর্ষ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। বহুদিন পর আমরা সত্যিকারের উৎসবের আনন্দে মাতছি।”
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও যেন হয়ে উঠেছে রঙ, শব্দ ও সংস্কৃতির মিলনমেলা।

Leave a Reply