বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা জেলার অন্তর্গত কেরানীগঞ্জের আতাশুর ও গদারবাগ এলাকায় প্রায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্যামিকেল মজুদ ও বিক্রি বানিজ্য।
খাদ্য দ্রব্য হতে শুরু করে বিভিন্ন প্রসাধনী ও কলকারখানা যেমন, টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানায় ব্যবহার করা বিপদজনক কিছু দাহ্য পদার্থ ক্যোমিকেল যাহা কেরানীগঞ্জের আতাশুর ও গদারবাগে গোডাউনজাত করে দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় বিক্রি করে।
আবাসিক এলাকার ভিতরে বাড়ির নিচতলার অংশ ও কিছু কিছু টিনসেট বিল্ডিং ভাড়ায় নিয়ে একটা চক্র এ মারাত্মক অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে। এরা চায়না থেকে কিছু আমদানি কৃত ক্যােমিকেল ক্রয় করে এর সাথে দেশি পাউডার ও পানি মিক্স করে দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় বিক্রি করে। এলাকাবাসির অভিযোগ যখন এসব ক্যোমিকেল এক ড্রাম হতে অন্য ড্রামে পানি মিশিয়ে মিক্স করে তখন এর একটা ঝাঁঝালো গন্ধে আবাসিক এলাকার বসবাসরত লোকজন ও শিশু বাচ্চারা ভালো করে নি:শ্বাস নিতে পারেনা এমনকি তাদের চোখে জ্বালা পোড়া করে।
প্রাথমিক কিছু তথ্যের সন্ধানে গেলে বেড়িয়ে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানাযায় অত্র এলাকার প্রায় দুই শতাধিক ক্যেমিকেল গোডাউনের মালিক পাবনা এলাকার, এবং এদের নাই কেনো ট্রেড লাইসেন্স, কোনো প্রকার ক্যেমিকেল মজুদ করার জন্য বৈধ কাগজ পত্র। নাই কোনো (এনওসি) এলাকার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। সরকারের হাজার হাজার টাকা ভ্যাট ট্যাক্স ফাকি দিয়ে এই সিন্টিকেট চক্র অবৈধভাবে ক্যেমিকেল মজুদ সহ বিক্রি করে আসছে। এলাকাবাসি জানায় এসমস্ত কার্যক্রম তারা রাতের আধারে করে। দিনের বেলায় সমস্ত কারখানা ও গোডাউন বন্ধ রাখে, রাত হলেই শুরু হয় তাদের এ অবৈধ কার্যকলাপ। দিনে প্রশাসনের নজরে পরার ভয়ে শুধুমাত্র রাতের বেলায় চলে এসব গোডাউন ও কারখানার অবৈধ ব্যাবসা। এধরনের কয়েকজন ক্যেমিকেল ব্যাবসায়ী ১। আমান ২। হাসেম ৩। বাবুল ৪।নিজাম ৫। নাজিম ৫। মুকুল সহ আরও প্রায় অর্থ শতাধিক মালিক রয়েছে যাদের সবার বাড়ি পাবনা এলাকায়, বর্তমানে আতাশুর ও গদারবাগে এদের ক্যেমিকেলের অবৈধ রাবন রাজত্ব চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আতাশুর ও গদারবাগের অনেকেই বলছেন এদের থেকে নাকি প্রশাসন ও সুবিধা নেয়, যার কারনে এ চক্রটা এরকম অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে। যদি দ্রুত এসব ক্যেমিকেল গোডাউন ও মিশ্রনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যাবস্থা না নেয়া হয় তাহলে কেরানীগঞ্জের আতাশুর ও গদারবাগে যে কোনো সময় হতে পারে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা। যাহা ঘটেছিল বিগত ২০২৪ সালে গদারবাগে , যে ক্যেমিকেল গোডাউনে দাহ্য পদার্থ মজুদ করা হতো ঐ গোডাউন হতে আগুন লেগে প্রায় ৩০/৪০ টি বাসা পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং একটি শিশু বাচ্চা সহ ৩ জনের প্রানহানী ঘটে।
তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট এলাকাবাসির দাবী অতি দ্রুত আবাসিক বাসা বাড়ি এলাকয় এ মরন ফাদ ক্যেমিকেল গোডাউন বন্ধ সহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply