ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ কলেজ ও বিষয় পরিবর্তন করে ফরম ফিলাপ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের কবলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড প্রফেসর শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানা ও নিয়ম অভিযোগ উঠেছে তিনি ময়মনসিংহ যোগদান করার পর থেকেই জালিয়াতির সিন্ডিকেটে পরিণত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। জালিয়াতিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। জালিয়াতি, অনিয়ম ও দূর্নীতর সকল মাত্রা
ছাড়িয়ে গেছে এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর একদিন আগে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ফরম ফিলাপ করার
ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করলে একএক করে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল। সূত্র মতে
কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করে
শিক্ষা বোর্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফরম ফিলাপগুলো করা হয়েছে। চক্রটি টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ইতিপূর্বে ৪৫০ জনের ফরম ফিলাপ করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে বিধি অনুযায়ী কোন টিসি ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড পরিবর্তন হয়নি। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আবেদন, প্রতিষ্ঠান
প্রধানদের সই জাল ও সিল ব্যবহার করা হয়।
মোটা টাকা নিয়ে এসব কান্ড ঘটায় বোর্ডের বিশেষ বিশেষ চক্র।মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সারা দেশের মধ্যে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। সূত্র মতে মোটা অংক নিয়ে বোর্ডের সার্ভার প্যানেলে পরিবর্তন করে এসব অপকর্ম চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এছাড়াও গত ২৭ শে জুন একই কান্ড ঘটিয়ে ২ শতাধিক শিক্ষার্থীকে
অবৈধভাবে ফরম ফিলাপের সুযোগ করে দেয়া হয়। বিষয়টি টক অব বিভাগ। ভেঙ্গে পড়েছে বোর্ডের চেইন অব কমান্ড। কোন সমন্বয় নেই। কর্মকর্তাদের অফিসে না পেয়ে সেবা গ্রহীতারা হয়রানির শিকার হয়। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কলেজ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার ৪ কর্মকর্তার কারনে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নানান কান্ড শুরু
হয়। প্রশ্নবিদ্ধ টিসি বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তনের হাট বসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। মূল ভবন থেকে কলেজ ও পরীক্ষা শাখা ২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্রকাশ্যেই চলে ঘুষ লেনদেন। এর আগেও ময়মনসিংহ ও জামালপুরের কলেজ কতৃপক্ষ এবং দালালদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় অন্তত ২০লাখ টাকা। বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা সহ অন্য কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘুষ নিলেও ৪/৫ লক্ষ টাকা সালমি ও বখরা দিয়ে পুরোটাই নিজের করে নেন চটপটে ও মিস্টভাষী এক কর্মকর্তা। তার কাছে ধরাশায়ী হন কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর প্রাণেশ রঞ্জন রায়।বখরা নিয়ে চলে বাক বিতন্ডা শাখা প্রধানকে পাশ কাটিয়ে
চেয়ারম্যান ও সচিবের আস্হাভাজন হয়েছেন এই কর্মকর্তা। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার আরেক কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই অনেক কিছুর প্রমান পাওয়া যাবে। সূত্র জানায় পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পরই কৌশলে টিসির দায়িত্ব নেন প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা। গত মে
মাসের শেষ দিকে ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর টিসি, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তনের খবর জানতে পেরে বেকে বসেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। বন্ধ করেন কার্যক্রম। সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির কথা বলে সময় ক্ষেপন করা হয়। অন্যদিকে শীর্ষ কর্মকর্তা ৫ লাখ টাকা নজরানা নিয়ে ভালুকার দুটি কলেজের
শতাধিক শিক্ষার্থীর বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করে নতুন রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদান করেন।জানা যায় প্রশ্নবিদ্ধ ফরম ফিলাপ কার্যক্রমে জামালপুর শীর্ষে বিভিন্ন কলেজের ৪ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে সুবিধাজনক কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ বেলটিয়ার সাহাবুদ্দিন মেমোরিয়াল
স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম সেলিমের বিরুদ্ধে। অনুমোদনহীন এই কলেজ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সরিষাবাড়ি ও ইসলামপুরের চারটি কলেজ থেকে ১৩০ জনকে পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ঘটে বিপত্তি। কলেজ ঘেরাও করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিচালনা পর্ষদ অধ্যক্ষ সেলিম কে সাময়িক বরখাস্ত করে। একইভাবে ফরম ফিলাপ কাণ্ড ঘটান জামালপুরের এফএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী ও ইসলাম পুরের ৪নং চর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম। ময়মনসিংয়ের কলেজগুলোর মধ্য তারাকানৃদার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ অন্যতম। সূত্র জানায় ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ৯৯টি। গত বছর ছিল ৯২ টি।বেড়েছে ৭ টি জামালপুর সদরে ৩টি। ময়মনসিংহ নগরীতে ২টি। ভালুকায় ২টি। এর মধ্যে ৫ টি কেন্দ্রের জন্য ২৫ লাখ টাকা লেনদেনের খবর নিশ্চিত করেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র। তার মধ্যে জামালপুরের ২টি ও ভালুকায় ২টি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ সম্পর্কে বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোঃ আবু তাহের বলেছেন অভিযোগ সঠিক নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ত্রুটিযুক্ত অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বর্তমান চেয়ারম্যান এর উদাসীনতায় ফল। এমন কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ শহীদুল্লাহ। জালিয়াতির ম্যাজিসিয়ান দের কবল থেকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ত্রুটিযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা না
গেলে অনাকাঙ্খিত অন্ধকারে ধাবিত হবে।

Leave a Reply