তারেক মাহমুদ, বিশেষ সংবাদদাতা :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় দৌলতপুরে পাঁচ বিঘা জমিতে মোঃ আব্দুল করিম চাষ করেছেন লাভজনক ফসল স্ট্রবেরি। বিগত দুই বছর সফল হওয়ার পর চলতি মৌসুমে স্ট্রবেরি চাষে আরো মনোযোগী হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাস থেকে জমি চাষ শুরু করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চারা রোপন করেছেন। চারা রোপণের পূর্বে তিনি জমিতে পটাশ ডিএপি এবং টিএসপি সার প্রয়োগ করে মাটি প্রস্তুত করে নিয়েছেন। স্ট্রবেরি চাষে মূলত দো-আশ ধরনের মাটি বিশেষভাবে উপযোগী। এখন চলছে চারা রোপণের পর বিশেষ পরিচর্যার কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাল্লাহ জানুয়ারির প্রথম থেকে উনি ফল পাওয়া শুরু করবেন যা মার্চ মাস পর্যন্ত বজায় থাকবে। আব্দুল করিম ভাই বলেন, বিঘা প্রতি চার হাজারের মতো চারা প্রয়োজন হয় এবং সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চার লাখ থেকে আরও বেশি পর্যন্ত উপার্জন করা সম্ভব। জমি প্রস্তুত ও চারা লাগানো থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক কাজে মোটামুটি দুই লাখ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি প্রাথমিক খরচ হয়ে থাকে। গাছ থেকে ফল সংগ্রহ স্থানীয় আড়তে এগুলো বিক্রি হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে যা ঢাকা শহর সহ অন্যান্য বড় বড় শহরে এবং সুপার স্টোরগুলোতে বেশ চড়া দামে স্ট্রবেরি বিক্রি হয়ে থাকে।

স্ট্রবেরি চাষ বেশ লাভজনক হওয়াতে বর্তমানে এই এলাকায় দুইশ থেকে আড়াইশোর মতো উদ্যোক্তা বর্তমানে স্ট্রবেরি চাষ করছেন এবং সমগ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় পাচশো এর অধিক উদ্যোক্তা এই চাষে নিয়োজিত রয়েছেন। সাধারণত স্ট্রবেরি গাছ থেকে চারা তৈরি করা যায় এবং বিশেষ ব্যবস্থায় ল্যাবরেটরীতে বীজ থেকেও চারা তৈরি করা যায়। এই বিশেষ ল্যাবরেটরী রাজশাহীতে অবস্থিত। আব্দুল করিম ভাই নতুন উদ্যোক্তাদের কে এই চাষে আগ্রহী হওয়ার জন্য বলেছেন এবং যেকোনো ধরনের তথ্য প্রদান বা সহযোগিতা করার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সবসময় আব্দুল করিম ভাইদের মত উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং সব ধরনের তথ্য ও সহযোগীতা এবং প্রযুক্তি দিয়ে পাশে আছেন। কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশকে স্বনির্ভর করা এবং সেই সাথে বিদেশে এই ধরনের দামি ফল রপ্তানি করার ব্যাপারে এই উদ্যোক্তারা বিশেষ অবদান রাখতে চলেছেন।
Leave a Reply