রিপোর্টার : বিশেষ প্রতিনিধি
সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২ এপ্রিল ২০২৫: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিস্বর এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ নারী তার ছোট বোনের হাতে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। আহত মেহেরুন্নেসা (৫৫), ভৈরব কালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী, গতকাল বিকাল আনুমানিক ৫:৩০টার দিকে বাবার বাসায় একা থাকা অবস্থায় এই হামলার শিকার হন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ভিআইপি কেবিন নম্বর ০৩-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেরুন্নেসার সঙ্গে তার ছোট বোন তাছিলমা বেগম (৩২) এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ২১ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিটি সরাইল থানার শলাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত, যার দাগ নম্বর ১১৫৩ এবং খতিয়ান নম্বর ৬০১। তাছলিমা বেগমের স্বামী আবুল হোসেন (৫৫), যিনি সুদের ব্যবসা, দালালি ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ। এই অপকর্ম কারী তার স্ত্রীকে সহযোগিতা করে আসছিলেন। তাদের বর্তমান ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা সিও অফিস এলাকায়।
ঘটনার দিন মেহেরুন্নেসা তার বাবার ভবনে একা অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাছলিমা বেগম ও তার স্বামী পরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করেন।আসামিরা কৌশলে মেহেরুন্নেসাকে আঘাত করতে শুরু করেন। তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে এবং পরিকল্পিত হত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করে এবং ঘরে থাকা বুটি এবং খুন্তি আঘাত করে।। তার আর্তচিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে একপর্যায়ে তাকে তালাবদ্ধ করে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ।
আসামিদের পরিকল্পনা ছিল তাকে হত্যা করে তার স্বাক্ষর বা সাইন নিয়ে পালিয়ে যাওয়া,কিন্তু পাড়া প্রতিবেশীরা তার আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে জায়গার সাইন বা টিপ সই নিতে সক্ষম হয়নি।
উদ্ধার ও প্রতিবেশীরা
মেহেরুন্নেসার আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশী আনু বেগম (৪০), তার স্বামী শিক্ষক আবুল কাশেম (৫৫), ফারাবি (৩১) এবং মেহেরুন্নেসার ভাইয়ের স্ত্রী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের আগমনে আসামিরা পালিয়ে যায়। ফারাবি কাল শহর এলাকার বাসিন্দা ও ইমতিয়াজ হোসেন (৩৫), যিনি সরাইল কালিগচ্ছ এলাকার বাসিন্দা, মেহেরুন্নেসাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
জানা গেছে, আসামিরা এর আগেও জমিটির দখল করার উদ্দেশ্য নিয়ে ভরাট করেছেন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিলেন। এবার তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে সম্পত্তির দখল পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী আরো জানান, উনার সাথে থাকা দুই ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার উনার ছোট বোন এবং বোন জামাই জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তাছলিমা ও তার স্বামীর অপকর্মের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মেহেরুন্নেসার পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। এই ঘটনায় তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত এবং আতঙ্কিত। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
গুরুতর আহত মেহেরুন্নেসা বাংলাদেশ সরকার ও আইন প্রশাসনের কাছে এর বিচার চান।
Leave a Reply