মোঃ মাসুম পারভেজ
গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও মেহেদী হাসানকে কেন ধরতে পারছে না থানা পুলিশ । উম্মে নুসাইবা হোসেন(১৪ বর্তমান) কদমতলী থানাধীন আশ্রাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালেয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ১৭ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখে বিকাল ৫:৩০ মিনিটের সময় উম্মে নুসাইবা হোসেন কোচিং করার জন্য বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু প্রতিদিনের মতো ঠিক সময়মত ফিরে না আসায় খোঁজা খুঁজির মাধ্যমে জানতে পারে যে , মেহেদী হাসান (২১) পিতা -মোখলেসুর রহমান ২ থেকে ৩ জনের সহযোগীতায় সিএনজিতে করে নুসাইবা হোসেন কে অপহরন করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ১৭ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখে কদমতলী থানায় উম্মে নুসাইবার মা শাহিনা সুলতানা একটি নিখোঁজ জিডি করে ,জিডি নং ১০৩৬ । কিছুদিন পরে নুসাইবা হোসেন এর পিতা-মোঃ রেজভী হোসেন কুমিল্লা জেলার বাঙ্গুরা ধানাধীন দৌলতপুর নজরুল গেটস্থ মেহেদী হাসানের পৈতৃক বাড়ীতে গিয়ে নুসাইবা হোসেন (১২) ও মেহেদী হাসান(২১) দুজনকেই বাড়ীতে উপস্থিত পান এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নুসাইবাকে ফিরিয়ে আনতে চান। নুসাইবা হোসেন ও তার বাবার সাথে চলে আসতে চায়। কিন্তু মেহেদী হাসান গোসল করার কথা বলে নুসাইবাকে ভয় দেখিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে পালিয়ে যায়। অতঃপর ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ইং তারিখে কদমতলী থানায় হাজির হয়ে নুসাইবার (মা) শাহিনা সুলতানা মামলা দায়ের করে যাহার মামলা নং-২১(৪)২৩ । কদমতলী থানার মামলার বিলম্ব দেখে কোর্টে আবেদন করা হয়।মামলাটি পি বি আই তে দেওয়ার জন্য ৫/০৮/২০২৩ ইং তারিখে মামলাটি স্থানান্তর হয়। পি বি আই নুসাইবা হোসেন কে উদ্ধার করে বিগত ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে এবং মেহেদী হাসানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। নুসাইবাকে অপহরনের পর মেহেদী হাসান সুকৌশলে জাল জন্ম সনদ তৈরি করে যাহার নম্বর ২০০৫৬৭৯৪৪২০ ২৪৯৯৬৯ “ব্যবহার করে, ২৬/০৫/২০২৩ ইং কুমিল্লা জেলার বাঙ্গুরা থানা সদরে নুসাইবাকে নিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেন। উক্ত নিকাহ নামায় (৪.০০,০০০) চার লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। উক্ত বিবাহের কার্যক্রমের সময় নুসাইবার জন্ম তারিখ ০৯/০১/২০০৫ ইং বয়স ১৯ বছর। কিন্তু নুসাইবার পিতা মাতা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিগত ৩০ জুন ২০০৬ ইং সালে। পিতা-মাতার বিবাহের এক বছর পূর্বে তারিখ দেখিয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন বানানো হয়। যা রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নুসাইবার প্রকৃত জন্ম সনদ ১৯/০২/২০১১ ইং জন্ম নিবন্ধন নম্বর ( বয়স১২) ২০১১২৬৯২০৫৬২১৬০৩৬। মেহেদী হাসান নুসাইবার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে এবং ৫ মাসের বাচ্চা নষ্ট করেন । মিথ্যা তথ্য দিয়ে মেহেদী হাসান ভুয়া জন্ম সনদ তৈরী করা যাহা সঠিক বলে ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৭/৯(১) ধারা মর্মে অপরাধ করায় তৎসহ পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৭১ ধারায় সত্য বলে প্রতীয়মান। জন্মসূত্রে ভিকটিমের বয়স মাত্র ১২ বছর জেনেও মেহেদী হাসান এর বাবা-মা বিয়ে দিয়ে তাদেরকে আশ্রয় দেয়। বাবা মা এটিও একটি বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন । পরিবারের সবাই একত্রে আত্ম গোপনে থাকার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১) ৩০ ধারায় অপরাধ পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৭১/১০৯ ধারায় অপরাধ হিসেবে দাখিল করেছে ।
নুসাইবাকে আদালতে নেওয়ার আগে মায়ের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয় আপোস এর মাধ্যমে মেয়েকে না নিলে, মেয়ে সেফ কাস্টরিতে যাবে, ৭ মাস মেয়েকে না পাওয়ার কষ্ট খুব অনুভব করে তার পরিবার। এবং মেয়েকে জন্য আপোস করে ‘আপোস নামায় উল্লেখিত থাকে মেহেদী হাসান নুসাইবা কে কখনও কোন রকম হয়রানি , ফোন বা কোন রকম যোগাযোগ করবে না। করলে আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় মেহেদী হাসান শুধুমাত্র নুসাইবার সাথেই এমন আচরণ করেছে তা নয় চরিত্রহীন লম্পট মেহেদী হাসান দৌলতপুর নিবাসী একজন চা বিক্রেতার দুই বাচ্চা সহ তার স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করে। এছাড়াও তার মায়ের আপন খালাতো বোন সম্পর্কে তার খালা হয় তার সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে মেহেদী হাসান অনেকেই সাথে তার সম্পর্ক আছে এক বছর না যেতেই আবার মেহেদী হাসান নুসাইবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে বলে যে, আবার অপহরণ করবে। শাহিনা সুলতানা কে মেরে ফেলার হুমকি দেয় মামলা তোলার জন্য। মামলা না তুললে আবার নুসাইবাকে নিয়ে যাবে। ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিবে। মেহেদি হাসান ওদের এলাকার হানিফ সাহেবের ছেলে বিল্লালের সহযোগিতায় নানা রকম ক্ষমতার প্রভাব দেখায়। নুসাইবার পরিবার মামলা তোলার অস্বীকৃতি জানালে ১৬/০৭/২০২৪ ইং তারিখে মেহেদী হাসান এর বাবা মোকলেছুর রহমান আরো লোক সহ তাদের বাড়িতে হামলা করে এবং এলাকার লোকজন জরো করে । এমতাবস্থায় নুসাইবার মা ভয়ে সাহায্যের জন্য 999 এ ফোন দেয় এবং সাহায্য চায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই মেহেদি হাসান দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। কর্মরত অফিসার থানায় ডায়বী করার পরামর্শ দেয়। নুসাইবার মা শাহিনা সুলতানা কদমতলী থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন,
জিডি নং ৯৫১ । ১৭ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে জিডির কপি আদালতে অবগত করে। মেহেদী হাসান বিজ্ঞ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করলে জামিন বাতিল করে এতে মেহেদী হাসান আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। নুসাইবার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। চার মাস পর সপরিবারে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং নুসাইবার নানার বাড়ি পঞ্চগড় জেলা আটোয়ারীতে বেড়াতে যায় নুসাইবার পরিবার। আটোয়ারী থেকে মির্জাপুর নুসাইবার মায়ের চাচার বাড়ি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং বেড়াতে যায় সেখানে নুসাইবার মায়ের চাচার বসত বাড়ির সামনে আটোয়ারী থানাধীন ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নে উত্তর সাদারপাড়া মৌমাস্থ্য বড় পাখিরী গাছ দেখতে গেলে উক্ত স্থানে নুসাইবা কাচা রাস্তাস্থ পৌছা মাত্রই মেহেদী হাসান তার সহযোগীদের সহযোগিতায় দুইটি মোটরসাইকেলে জোর করে সকাল ১১:৩০ মিনিটের সময় অপহরন করে তুলে নিয়ে যায়।একটি মোটরসাইকেল নাম্বার ঢাকা মেট্রো হ – ১৬২৯।
অতঃপর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে আসামীগণ মোবাইল নম্বর যথা ০১৭২৭১৯৮২৪৫ এবং ০১৭৫০৩১৫২৮৬ থেকে ফোন করিয়া নুসাইবার মাকে দিনাজপুর বীরগঞ্জ এসে নুসাইবাকে নিয়ে যেতে বলেন এবং মামলা তুলতে বলেন। মামলা না তুললে মেয়েকে দিতে, অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থার নুসাইবার ছোট মামা মোস্তাককে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বীরগঞ্জ পাঠানো হয়। সেখানে তার কাছে মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা জোড় করে মুছলেখা আদায় করার চেষ্টা করে। এবং মামলা তোলার হুমকি দেয়। মামলা না তুললে, নুসাইবাকে পাচার করে দিবে নতুবা প্রাণে মেরে ফেলবে। নুসাইবার পরিবার আটোয়ারী থানায় অভিযোগ দায়ের করে এবং তাদের ফোন আলাপ শোনায়। তদন্ত কর্মকতা কয়েকজন পুলিশ নিয়ে বীরগঞ্জ যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে ওদের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন পুলিশের উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে অনেক অশান্তি বিরাজ করে।আটোয়ারী থানার পুলিশ কৌশল অবলম্বন করে বীরগঞ্জ ওসির কাছে নিয়ে যায়। ওসির কাছে ‘ওই সন্ত্রাসী বাহীনি মেহেদী হাসান তাদের কাছে আছে স্বীকার করে এবং পরের দিন ৪/২/ ২০২৫ ইং তারিখে ওসির কাছে নুসাইবাকে দিয়ে দিবে । পরের দিন ওসি যোগাযোগ করলে বলে মেহেদী হাসান এখান থেকে চলে গেছে ৬ জানুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে নারী ও শিশু আদালত ট্রাইবুনাল ঢাকা বিজ্ঞ- আলামত উক্ত অভিযোগ পত্র দাখিল করে । এ বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতকে অবগত করা হয় । আদলত মেহেদী হাসান এরজামিন বাতিল করে। এমতাবস্থায় কোন খোঁজ না পেলে পঞ্চগড় আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করার জন্য যায়। আটোয়ারী থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় । এবং শাহিনা সুলতানার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল পঞ্চগড় আদালতে সিআর মামলা দায়ের যাহার মামলা নং ২৩/২৫ মামলা দায়ের করার পর এখন পর্যন্ত ভিকটিম উদ্ধার এবং আসামীদের ধরার কোন অগ্রগতি নেই। এই পরিস্থিতিতে নুসাইবার পরিবার ভীত হয়ে আছে তাদের মেয়ে বেঁচে আছে কিনা তাও তাদের অজানা। আটোয়ারী থানা ২৬/০১/২৫ অফিসার ইনচার্জ কোম্পানি কমান্ডো র্যাব ১৩ , সিপিসি ২ নিলফামারী বরাবর আসামি গ্রেফতার ও ভিকটিম উদ্ধারের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু অদ্যাবধি নুসাইবার পরিবার কোন আইনি সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত আসামিদেরকে আটক করে নুসাইবাকে উদ্ধার করা হচ্ছে না। কি এর রহস্য কিভাবে এখনো পর্যন্ত মেহেদী হাসান আত্মগোপনে থাকতে পারে। তথ্যসূত্রে জানা যায় মেহেদী হাসানের বাবা মার সাথে যোগাযোগ হচ্ছে এমতাবস্থায় নুসাইবার পরিবার ন্যায় বিচার এবং মেয়েকে ফিরিয়ে পাওয়ার আকুল আবেদন নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার অফিসে দারস্থ হয়। নুসাইবার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা তদন্তের জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের ভিত্তিতে দেখা যায় মেহেদী হাসানের বাবা মা সর্বোচ্চ অপরাধী কেননা ১২ বছর বয়সী একটি নাবালিকা মেয়ের সাথে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন এবং কাজির সহযোগিতায় কিভাবে তাদের ছেলেকে বিয়ে দিলেন। আইনকে অবমাননা করে এ কাজের সাথে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের সকলকেই মানবাধিকার সংস্থা আইনের আওতায় আনবেন।এবিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টা ,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ,সেনাপ্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি , র্যাব প্রধান, ডিবি প্রধান সকলের নিকট আইনি সহায়তার মাধ্যমে অতি দ্রুত নুসাইবা কে উদ্ধার এবং আসামিদেরকে আটক করার জন্য মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।
Leave a Reply