মোঃ গোলাম রব্বানী, উপ-সম্পাদকঃ গত ০৩/০২/২০২৫ ইং রোজ রবিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য ছিলো, গ্রাম আদালত সেবা প্রদান কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে প্রকল্পভুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় চলমান গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ ও তা দূরীকরণের সম্ভাব্য উপায় নিরুপণ করা স্থানীয় প্রশাসনের দিক-নির্দেশনা প্রদান।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা- জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণগঞ্জ, উপস্থিত সকল ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করতে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও একান্ত প্রয়োজন এবং গ্রাম আদালতের নথি সংরক্ষণে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে নির্দেশনা দেন।তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালত আইন ২০২৪ খ্রি. সংশোধনীতে যেহেতু আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে, সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের উচিত এর সঠিক বাস্তবায়ন করা এবং সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন গ্রাম আদালত পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করা। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সহজ করতে সহযোগিতা করবে। গ্রাম আদালতের কাজ গতিশীল হলে উচ্চ আদালতে ছোট খাটো মামলার জট অনেকাংশে কমে যাবে। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি, জনাব,ড. মো: মনিরুজ্জামান- উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, নারায়ণগঞ্জ। আলোচনা শুরুতেই তিনি বলেন যে, গ্রাম আদালত আইন ২০২৪ খ্রি. সংশোধনীর গুরুত্ব অনেক রয়েছে। যেমন, পূর্বে গ্রাম আদালতে এখতিয়ার ছিলো ৭৫,০০০/- টাকা যা সংশোধীত হয়ে ৩,০০,০০০/- টাকা করা হয়েছে। এখন থেকে এই মূল্যমানের সীমার মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান/প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ গ্রাম আদালতে বিচার্য্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।এ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ ও সংশোধনী ২০২৪ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবেন।তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যেন ন্যায়বিচার সঠিকভাবে পায় এবং সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানদের নজর দিতে হবে। জনগণের নিকট স্থানীয় সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে গ্রাম আদালতের সেবার মান বাড়াতে হবে। উক্ত আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার উপজেলার নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং অংশগ্রহণ করেন ৩৯ টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও উপজেলা সমন্বয়কারীগণ, ও সংবাদ কর্মীগণ।এ ছাড়াও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প,নারায়ণগঞ্জ। বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সহজ করার লক্ষ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ সরকার এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং ইউএনডিপির কারিগরি সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প”। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ বিশেষতঃ উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণের দিক-নির্দেশনা, স্বতসঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, সমন্বয় ও বিভিন্ন বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে গ্রাম আদালতের সেবা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Leave a Reply