বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের যেসব কল রেকর্ড প্রসিকিউশন টিম পেয়েছে, তা ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অথবা ইলেকট্রনিক অ্যাভিডেন্স যাচাইয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, যে কোনো ডিজিটাল তথ্য আদালতে পেশের আগে সেটি সঠিক কি না ও সাক্ষ্য হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়।বাংলাদেশে এ কাজের জন্য আমাদের সার্টিফাইড অথরিটি হচ্ছে সিআইডি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত হওয়ার জন্য ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আদালতে পাঠানোর বিধান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনেও বলা আছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে ডিজিটাল সাক্ষ্য পাওয়ার পর, আমরা তা প্রথমে সাক্ষ্যমূল্য অনুযায়ী ছাঁটাই করেছি। সেই উপাত্তগুলোর ওপর (ডিজিটাল) ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সিআইডির কাছে পাঠানোর ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করি।এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার পর, তথ্যগুলো যাচাইয়ে সিআইডি ও সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কিছু সংস্থার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে সেটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান এবং কিছু ক্ষেত্রে জটিল ও সময়সাপেক্ষ। কিছু অফিসিয়াল তথ্য যথাযথভাবে পেতে যে সময় লাগার কথা, তার চেয়ে বেশি সময়ও লাগতে পারে।মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কলরেকর্ড, অডিও, ছবি ও মেসেজ ইত্যাদি যেমন তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়,সেই সঙ্গে মামলার সাক্ষীদের বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে থাকা প্রাসঙ্গিক ছবি, দলিল ইত্যাদিও একইভাবে তথ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়। কোনো একজন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থা ভেদে আলাদা নয় বরং জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাসঙ্গিক সব তথ্যই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। এ সময় দেশ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে কিংবা ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর।

Leave a Reply