আমাদের মৌলিক অধিকার গুলো সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬-৪৭ (ক) অনুচ্ছেদ বলা আছে,সর্ব মোট আমাদের ২৩ টি মৌলিক অধিকার সংবিধানে দেওয়া আছে, প্রতিটি বাংলাদেশের নাগরিক এই অধিকারগুলোকে উপভোগ করার কথা,কথা দল-মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এবং তা না পারলে আইনিভাবে আইনগতভাবে আদায় করার কথা ।কিন্তু বাস্তবতা হল কোন সাধারন জনগন এই মৌলিক অধিকারগুলোকে উপভোগ করতে পারে না।আমরা সব সময় সংবিধানের অনুচ্ছেদ এর ২৬,২৭,২৮,৩৭,৪১ নিয়ে বেশি আলোচনা শুনি,কারণ এই অধিকারগুলো যতটুক সাধারণ মানুষের দরকার তার থেকে বেশি দরকার আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের, যখন তারা বিরোধী দলে থাকে । কিন্তু যখন তারা ক্ষমতায় যায়, তখন আর এই মৌলিক অধিকার গুলো তাদের প্রয়োজন হয় না, বরং তখন অন্যদেরকে এই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত করার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে .আজ আমার লেখার বিষয় হলো অনুচ্ছেদ ৪২ (সম্পত্তির অধিকার), আগে এই অনুচ্ছেদ নিয়ে লেখা কারন একটু ব্যাখা করি , আজ ৩১ জুলাই ২০২৫ ইং, প্রথম আলোর হেড লাইনে একটি খবর ছাপা হয়েছে “আমরা তো জানতাম না দোকান ফেরত চাইতে গেলে পিডিয়া মাইরা ফেলব” ।আমি দেখলাম এটি একজন বোন তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করার পর বিলাপ করে এই কথা গুলো বলেছে,তার ভাই নিজেও একজন বিএনপির নেতা ছিল। তার অপরাধ তার একটি দোকান ঘর বিএনপির পার্টি অফিস করার জন্য ভাড়া দেয়।যখনি সে দোকান ভাড়ার টাকা চায়, তখনি তার থেকে একটু বেশি ক্ষমতাবান বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ।এখন দোকান ছিল জাহাঙ্গীর হোসেন এর সম্পত্তি এবং এবং এটি বুক দখল করা তার একটি সাংবিধানিক অধিকার ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ।জাহাঙ্গীর হোসেন এর হত্যা কি শুধু হত্যা নাকি বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র? নাকি বাংলাদেশের মানষের প্রতি বিএনপির একটি বার্তা যা করতে চাইবে তাহা করতে দিতে হবে ।এটি সত্য বিএনপির নেতা-কর্মিরা যা করতে চায় তাই করে।এতে করে যদি তুলনামূলক ভাবে বিএনপির ছোট নেতা কে মেরে ফেলতে হয়, বিএনপির নেতা-কর্মিরা তাই করবে।আর এই চিন্তা থেকে কি জাহাঙ্গীর কে খুন করা হয়? এই একটি ঘটনা থেকে জাহাঙ্গীর অধিকারী শুধু হারায়নি, হারিয়েছে তার জীবনটা। আজ সাধারণ মানুষ বলে আমার অধিকার লাগবে না , আমার জীবনটাই বেঁচে থাকুক . কিন্তু তারপরও তারা কি পারে তাদের জীবন রক্ষা করতে? বিএনপির কম ক্ষমতা বা নেতার যদি এই পরিনতি হয়, তাহলে সাধারন মানুষ ও নিরিহ আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীর কি হবে? যদি কোন এলাকার বিএনপির নেতা কর্মিরা সাধারন মানুষ বা নিরিহ আওয়ামিলীগ নেতা কর্মির সম্পত্তি দখল করে, তারা কি তাদের এবং তাদের পরিবারের জীবন বাঁচাতে পারবে? যেখানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় যথেষ্ট, তাদের জীবন হারানোর জন্য।সেখানে তাদের সম্পত্তি রক্ষার কোন উপায় থাকবে? বাংলাদেশেন কোন আইন কি সাধারন জনগন বা আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারবে? অন্তত গত ১ বৎসরের চিত্র দেখলে বোঝা যায় আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীদের কে হত্যা করা , পিটিয়ে পুলিশে দেওয়া একটি আইন সম্মত কাজ . আর যেন বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীরা সেই আইনের রক্ষক । এই সরকারি কি আর কখনো জাগবে? পুরো জাতি জাগ্রত সরকারের অপেক্ষায়, কবে দেখা পাবো সেই জাগ্রত সরকারের?
মো : হারুন অর রশিদ
কলামিস্ট
Leave a Reply