মো:শিহাব উদ্দিন :
গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন সুড়াবাড়ি হায়াতল মার্কেট এ ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়িতে ৪ বছর বয়সী শিশু কে গরম পানি ঢেলে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়। গত ১৯ / ০৪ / ২০২৫ তারিখে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে জানা যায়, ১০-১২ দিন পূর্বে বাড়িওয়ালার ছেলের নাতির সাথে খেলা করার একপর্যায়ে আমার চার বছরের শিশু বাচ্চা বাড়িওয়ালার নাতিকে ধাক্কা দেয় তারই জের ধরে বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে ভাড়াটিয়া আলম কে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়, এবং ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলের বউ বলে আমার ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছো এর প্রতিশোধ নেবই নেব। তারই ভিত্তিতে গত ১৯/০৪/২০২৫ইং তারিখে বেলা ১১টার দিকে চার বছরের শিশু আবদুল্লাহ(৪) বাড়ির আঙ্গিনায় ট্যাপের কলের পানি পান করতে যায়, এই সুযোগে ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলের বউ মোছাঃ ইমু (২৫) শিশু আব্দুল্লাহর(৪) গায়ে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেয় যার ফলে শিশু আব্দুল্লাহ (৪)এর শরীরের গলা থেকে কোমর পর্যন্ত একেবারে ঝলসে যায় তাৎক্ষণাৎ শিশু আব্দুল্লাহকে(৪)কে পার্শ্ববর্তী একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যায় সেখানে ফার্মেসি থেকে বলা হয় এই শিশু বাচ্চাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ইউনিট হসপিটালে চিকিৎসা করাতে হবে দ্রুত সেখানে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। শিশু আব্দুল্লাহ র বাবা আলম একজন দিনমজুর তার পক্ষে এম্বুলেন্স নিয়ে হসপিটালে যাওয়ার মত আর্থিক ব্যবস্থা না থাকায় পার্শ্ববর্তী একজন প্রতিবেশী সিএনজি ভাড়া করে দেয় সেটা নিয়ে শিশু আব্দুল্লাহকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শিশু আব্দুল্লাহর অবস্থা আশঙ্কাজনক ডাক্তার সূত্রে জানা যায় একটু আব্দুল্লাহ প্রস্রাব পায়খানা ঠিক ছিল কিন্তু তার এখন প্রস্রাব পায়খানা বন্ধ হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় দিনমজুর আলমের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছে। কাশিমপুর থানা সূত্রে জানা যায় এ ব্যাপারে কাশিমপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান জানান বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ সূত্রে আসামিরা হচ্ছে ১! মোসাম্মৎ ইমু (২৫) স্বামী: মোহাম্মদ রাসেল ভূঁইয়া। পিতা: অজ্ঞাত। মাথা: অজ্ঞাত ২! মোঃ রাসেল ভাইয়া (৩০) পিতা: ইসলাম ভূঁইয়া, মাতা: রাজিয়া খাতুন ৩! ইসলাম ভূঁইয়া (৫৫) পিতা: কাশেম ভূঁইয়া,মাতা: রওশন আরা বেগম ৪! মোছাঃ রাজিয়া খাতুন (৫২) স্বামী: ইসলাম ভূঁইয়া। সকলের সাং সুরা বাড়ি ছায়াতল মার্কেট , থানা কাশিমপুর, গাজীপুর মহানগর। শিশু আব্দুল্লাহর (৪) এর পিতা দিনমজুর মোঃ আলম বলেন আমার ছেলের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় আমি আমার বাড়িওলার সাথে যোগাযোগ করি এবং আমার আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয় জানিয়ে তার নিকট কিছু আর্থিক সহযোগিতা চাইলে উল্টো আমাকে বলে তোমার ছেলের চিকিৎসার ভার আমরা নিতে পারবো না তোমার ছেলের চিকিৎসা তুমি করো আর যদি কোন প্রকার থানা পুলিশ করতে যাও তাহলে বিপদে পড়বা এই বলে হুমকি ধামকি প্রদান করে। শিশু আব্দুল্লাহর পিতা আলম আরো বলেন এমাতবস্থায় আমার পক্ষে সন্তানের চিকিৎসা করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে ,তাই সমাজের বিত্তবান লোকের কাছে সাহায্যর প্রার্থনা করি, পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন যারা আমার ছোট শিশু বাচ্চার সাথে যে আচরণ করেছে তাদের আইনেরআওতায় এনে কঠিনতম শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানা গেছে শিশু আব্দুল্লাহ ( ৪) এর সাথে যেই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে সেটা খুবই দুঃখজনক। দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। শিশু আব্দুল্লাহ (৪) এর পিতা মোঃ আলম লালমনিরহাট সদর উপজেলার সিন্ধুর মতি বেপারী পাড়ার আব্দুল জলিলের ছেলে। কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ি ছায়াতল মার্কেট এ ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, তিনি একজন দিনমজুর, মোঃ আলম ও তার স্ত্রীর কান্নায় এলাকার মানুষ শোকাহত। এলাকাবাসী জানায় এরকম জঘন্যতম নেক্কারজনক ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই সেই সাথে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোরভাবে শাস্তির দাবী জানায় এলাকাবাসী।
Leave a Reply