চাঁদার টাকা না পেয়ে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে প্রকাশ্যে দুই কম্পিউটার ব্যবসায়ী নেতাকে কুপিয়েছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত মাল্টিপ্লান সেন্টারের সামনের সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মাল্টিপ্লান সেন্টারের (ইসিএস কম্পিউটার সিটি) যুগ্ম সদস্যসচিব মো. এহতেসামুল হক ও এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দীপু। এদের মধ্যে এহতেসামুল হক আশঙ্কাজনক অবস্থায় পপুলার জেনারেল হাসপাতালের আইসিইতে চিকিৎসাধীন আছেন।
এই ঘটনায় রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলার আবেদন করেছেন আহত ওয়াহিদুল হাসান।হামলার পর থেকে ওই মার্কেটসহ এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় থম-থমে ভাব বিরাজ করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভির ফুটেজসহ আলামত সংগ্রহ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে দুই ব্যবসায়ী নেতা এহতেশামুল হক ও ওয়াহিদুল হাসান মাল্টিপ্লান সেন্টার থেকে বের হওয়ার সময় অতর্কিত হামলা চালায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। এ সময় ৯ থেকে ১০ জন যুবক এহতেশামুল হককে রাস্তায় ফেলে চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা প্রাইভেটকারে থাকা ওয়াহিদুল হাসানকেও কোপায় এবং তার গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। হামলাকারীরা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে থাকা দুটি গাড়িও ভাঙচুর করে।
এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সদস্যসচিব মো. নজরুল ইসলাম হাজারী বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আমাদের একটি অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষে দীপু ভাই ও এহতেশাম ভাই বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় প্রথমে চাপাতি হাতে একজন হামলাকারী র্যাম্পে ঢোকে। সেখান থেকে গাড়ি বের করার সময় দীপু ভাই এবং অদূরেই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এহতেশাম ভাইকে এলোপাথাড়ি কোপায় র্যাম্পে ঢোকা সন্ত্রাসী ও তার অন্য সহযোগীরা।এ সময় তাদের ৭ থেকে ৮ জন ঘিরে রাখে। হামলায় এহতেশাম ভাইয়ের দুই হাত ও পা গুরুতর জখম হয়েছে। দৌড়ে মার্কেটে ঢোকার সময় দীপু ভাইর পায়ে কোপ লাগে।’
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির বিসিএসের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ইসিএস) কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে (২০২৫-২০২৬) আহত দুজন নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হন ওয়াহিদুল হাসান দীপু। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ হামলা চালিয়েছে কি না জানতে চাইলে সভাপতি ওয়াহেদুল হাসান আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক কেউ এই হামলার ঘটনা ঘটায়নি। মূলত গত ২২ ডিসেম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের পালিত সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে মার্কেটে হামলা চালায়। ’
তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদে ওই দিনই ব্যবসায়ীরা এক হয়ে রাস্তায় নেমে এসে চাঁদাবাজদের হটিয়ে দেয়। এর জের ধরেই ওই দুই ব্যবসায়ী নেতাকে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রুপ কুপিয়েছে বলে বদ্ধমূল ধারণা আমাদের। হামলার ঘটনায় জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ওয়াহেদুল হাসান। ’এদিকে চাঁদার টাকা না পেয়ে প্রকাশ্যে দুই ব্যবসায়ী নেতার ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আজ শনিবার দুপুরে মার্কেট বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন বৃহত্তর এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন থেকে প্রতিবাদ জানান শত শত ব্যবসায়ী। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো সন্ত্রাসী হামলা বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে দাড়াতে হবে; গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে; সরকারকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে; যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধ করা যায়।

Leave a Reply