রিপন আলী রাজশাহী ব্যুরো।।
নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরকে অপসারণ করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল ব্যবহারে দুর্নীতি, অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা এবং নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জারিকৃত আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঐ প্রজ্ঞাপনে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অপর এক পত্রে নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
গত ১৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহবুবা আইরিন সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরকে অপসারণ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং নৈতিকস্খলনজনিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের দাখিলকৃত জবাবে আনীত অভিযোগ খণ্ডনের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নাচোল উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরকে স্বীয় পদ থেকে অপসারণ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে একধিকবার তার ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগে উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হতে আসা প্রজ্ঞাপনটি সন্ধ্যায় হাতে পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যানের কাদেরের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ভাইরাল হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সময় নারী কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদেরকে দল ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ এলাকাবাসী।
এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সরকারি খাদ্যগুদামে গম ও ধান ক্রয়ে দুর্নীতি, উপজেলার উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ লুটপাট, জলাবায়ু পরিবর্তন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, প্রায় ৪শ সরকারি পুকুর লিজ প্রদানে দুর্নীতির একাধিক সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
Leave a Reply