1. dailyamarsongram71@gmail.com : Abu Yusuf : Abu Yusuf
  2. admin@dailyamarsongram.com : admin :
  3. mdjakir349@gmail.com : Md. Jakir Hossain : Md. Jakir Hossain
  4. akazzad1@gmail.com : Abul Kalam : Abul Kalam
  5. dailyamarsongrambd@gmail.com : Head Office : Head Office

Notice: date_default_timezone_set(): Timezone ID 'UTC+6' is invalid in /home/dailyam2/public_html/wp-content/themes/BreakingNews/header.php on line 77
July 19, 2024, 12:35 pm
শিরোনাম :
মহান বিজয় দিবস ও ও বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সরোয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ডাকে  শাটডাঊন চলছে। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজট মধ্যরাতের স্লোগান সতর্ক সংকেত সিটি কর্পোরেশন এলাকাভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে সামাজিকভাবে তাঁদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ কোন ষড়যন্ত্রই আমাকে চাটখিল সোনাইমুড়ীর মানুষের হৃদয় থেকে দুরে সরাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ – আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম। কাঁচপুর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টা পথে এসে বিশৃঙ্খলা করছে থ্রি হুইলার ইজিবাইক চাটখিলের বক্তারপুর গ্রামের কৃতিসন্তান কালীগঞ্জে সার্বজনীন পেনশন স্কীম বিষয়ক মতবিনিময় সভা। শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

সড়ক দুর্ঘটনা : আমরা প্রাণের মূল্য বুঝব কবে

  • সময়: Thursday, June 13, 2024
  • 28 View

সাম্প্রতিক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই ঝরে গেল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতিমান শিক্ষার্থী দুই তাজা তরুণ প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনায় এই উদীয়মান মেধাবী তাজা তরুণ দুটি প্রাণ শুধু যে অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেল, তাই নয়। সেই সঙ্গে আজীবনের জন্য শূন্যতা রেখে গেল তাদের পরিবার-স্বজন-বন্ধুমহলে, এভাবে কত বাবা-মাই তাদের সন্তানকে অসময়ে হারিয়ে দিশাহারা। আরও বৃহৎ পরিসরে চিন্তা করলে, যেখানে যে কোনো প্রাণেরই মূল্য অপরিসীম, সেখানে শিক্ষিত, মেধাবী মানবসম্পদের এভাবে চলে যাওয়া দেশের জন্য অপূরণীয় বিশাল এক ক্ষতি।

বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার দুটোই বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গেল সপ্তাহে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। শুধু এক ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত হয়েছেন ৩৬৭ জন। ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানবসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। তবুও আমরা কেমন যেন নীরব, নিশ্চুপ ও নির্লিপ্ত। এভাবে আর কত প্রাণ গেলে আমরা প্রাণের মূল্য বুঝতে পারব?

চুয়েটের দুর্ঘটনা-পরবর্তী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসচালককে অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। সেই সঙ্গে পত্রিকায় জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তহবিল গঠন করবে, যেখানে সাবেক-বর্তমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সহযোগিতা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক প্রশস্ত করার কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হবে। এসব বিভিন্ন উদ্যোগ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা-পরবর্তী আমরা শুনেছিলাম, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করছেন, আন্দোলন স্থগিত করেছেন প্রশাসনের চাপের মুখে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দশ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। কেননা এর আগেও ছোটখাটো বা বড় যত দুর্ঘটনাই ঘটেছে, তারা ঘটনা-পরবর্তীতে আশ্বাস পেলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। চুয়েট শিক্ষার্থী ও পত্রিকার সংবাদ ভাষ্যে আরও জানা যায়, আমাদের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই এখানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের চেয়ে মাঝারি ও বড় কর্তাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে, প্রয়োজনের সময় প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। সেই সঙ্গে চুয়েটের মেডিক্যাল সেন্টারও রুগ্ন, যার নিজেরই চিকিৎসা প্রয়োজন। শহরের সঙ্গে চুয়েটের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বাস হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থী অনুপাতে চুয়েটের নিজস্ব বাসের স্বল্পতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দশ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বাসের সংখ্যা ও শিডিউল বৃদ্ধি। এ ছাড়া আগের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, আমাদের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো একটি সমস্যায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকালে দায়িত্বপূর্ণ লোকজনের কেউ কেউ এমন সব বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন যা অনভিপ্রেত, শুনেছি এ ক্ষেত্রেও একজন শিক্ষকের একটি মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে আমাদের দায়িত্বশীল লোকজন এমন যে কোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।

বিগত সময়ে খুদে স্কুল শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পর অনেককেই বলতে শুনেছিলাম, শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রায় সবাই ভেবেছে, সড়কের চারদিকে ছড়িয়ে থাকা নানা অনিয়মের হয়তো কিছুটা হলেও হবে অবসান। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সড়কের অনিয়ম ঠেকাতে সরকারের নানা সংস্থা বিশেষ করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএ ও সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০১৮-এর ১৯ সেপ্টেম্বর বেপরোয়া মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন বিল ২০১৮ সংসদে পাসও হয়। পাস হওয়া আইনে শাস্তি ও টাকার অঙ্কে জরিমানা বাড়ানো হয়েছিল, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক এতে জরিমানার বিধান যুক্ত হয়েছে, বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে, পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স, চালক ও সহকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগসহ এমন আরও অনেক ভালো কিছু যুক্ত হয়েছিল, যা ছিল আশাপ্রদ। যদিও আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এটির প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। আর তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল এই আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে মাসখানেক আগে সড়ক আইনে অপরাধের শাস্তি কমিয়ে কিছু সংশোধনী মন্ত্রিসভায় পাসও হয়, যা কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদে পাস করা হবে। যদিও ২০১৮ সালে এই আইন পাস হওয়ার আগেও এতে অংশীজনদের কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তবুও সবদিক বিবেচনায় এমন একটি আইন পাসের জন্য সেই সময়ে পরিবহনসংশ্লিষ্ট লোকজন বাদে প্রায় সবাই সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংশোধনী পাস হলে এই আইন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেই সংশয় রয়েই যায়।

আমাদের দেশে এত বেশি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ কী এবং সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কী করণীয় এমন আলোচনা নানা ফোরামে ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার হার এবং সড়কের নানা অনিয়ম কমার চেয়ে বরং বেড়েছে।

আমাদের সচেতন-অসচেতন নির্বিশেষে নাগরিকদের বেশিরভাগই যত্রতত্র রাস্তা পারাপারে উৎসাহী, ব্যস্ত সড়কের যেখানে ফুটওভার ব্রিজ আছে সেখানেও দেখা যায় রাস্তার নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে শিক্ষিত-নিরক্ষর নির্বিশেষে মানুষজন। শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে যারা এভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন তাদের তো নিশ্চয়ই এই বোধ আছে এভাবে এলোমেলো রাস্তা পার হওয়া অনুচিত, তবুও তা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আমরা আবার সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে যথাযথ আইন মেনেই গাড়ি চালাই। গেল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দেখা গেছে, লজ্জায় পড়ে হলেও সাধারণ থেকে অসাধারণ প্রায় সবাই সেই সময়টায় সাধারণ ট্রাফিক আইন মানার চেষ্টা করেছেন। তার মানে, আমরা পথ সংস্কৃতি নিয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না পেলেও ন্যূনতম যা জানি তাও পালনে সচেষ্ট নই, যদি আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকে। তাই অনেকেই বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ হলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার প্রত্যাশা, সরকার ও ট্রাফিক পুলিশের সব ভালো উদ্যোগ, আইন সফল ও কঠোরভাবে পালন হোক। কিন্তু নগরের পথচলতি মানুষ হিসেবে আমরা যদি নগরের ‘নাগরিক’ হয়ে উঠতে না পারি তা হলে সরকারের কোনো আইন ও ট্রাফিক পুলিশের যে কোনো ভালো উদ্যোগ, তৎপরতা বা সপ্তাহ পালন কোনো সুফল বা সফলতা বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। কারণ একটা শহরে শুধু পাকা রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উঁচু দালান, কিছু শপিংমল আর ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলেই তা নগর হয়ে ওঠে না, একটা শহর তখনই সত্যিকার নগর হয়ে ওঠে যখন সেখানে বসবাসরত লোকজন সেই নগরের আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং তার জন্য পালনীয় দায়িত্ব বা কর্তব্য সঠিকভাবে মেনে চলেন।

কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এ রকম হাজারো অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে নিরাপদ সড়ক আদৌ সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের স্কুল-কলেজের সিলেবাসে পথ সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সেই সঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি আমরা নিজেরাও নাগরিক হিসেবে সচেতন হব। তবে আমাদের ছেলেবেলা থেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্কুল শিক্ষার্থীদের পথ সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞানদান করা উচিত। কারণ ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মূল্যবোধ বিকশিত হয় এবং ছোট থাকতেই যদি তাদের ট্রাফিকের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা হয়, তা হলে তা তাকে ভবিষ্যতে যোগ্য নাগরিক হয়ে সড়ক আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করবে ও সচেতন করে তুলবে, এ কথা বলাই যায়। তবে দিনশেষে সড়কে শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকেই। প্রতিটা প্রাণের মূল্য আমাদের বুঝতে হবে।

লেখক এম এম ফয়েজ উল্লাহ পাঠান 

0Shares

Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/dailyam2/public_html/wp-includes/functions.php on line 6085

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© Daily Amar Songram.
Theme Customized By BreakingNews