1. dailyamarsongram71@gmail.com : Abu Yusuf : Abu Yusuf
  2. admin@dailyamarsongram.com : admin :
  3. mdjakir349@gmail.com : Md. Jakir Hossain : Md. Jakir Hossain
  4. akazzad1@gmail.com : Abul Kalam : Abul Kalam
  5. dailyamarsongrambd@gmail.com : Head Office : Head Office

Notice: date_default_timezone_set(): Timezone ID 'UTC+6' is invalid in /home/dailyam2/public_html/wp-content/themes/BreakingNews/header.php on line 77
June 15, 2024, 7:03 am
শিরোনাম :
মহান বিজয় দিবস ও ও বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সরোয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট ভোগান্তিতে যাত্রীরা, নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ। দৈনিক আমার সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি রুনা বেগম লাঞ্ছিত প্রবীণ সাংবাদিক নেতার আবেদনগাইবান্ধা প্রেসক্লাব সিলগালা করলো প্রশাসন সড়ক দুর্ঘটনা : আমরা প্রাণের মূল্য বুঝব কবে দুর্নীতিবাজদের প্রতি সামাজিক ঘৃণা জানানোর এখনই সময় অব্যাহতি প্রদান রাজবাড়ীতে পানি উঠছে না টিউবওয়েলে, বিপর্যস্ত জনজীবন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।  শাহরাস্তি থানা পুলিশের অভিযানে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য রিপন গ্রেফতার। 

কিশোর গ্যাং দমনে আইন পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

  • সময়: Saturday, June 8, 2024
  • 5 View

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ এরা করছে। এমনকি খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধও বাদ যাচ্ছে না। এরা এত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল কেন? কারণ একটাইÑ সেটা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা। কিশোর অপরাধ দমনে দেশে প্রচলিত আইনও এখন আর পর্যাপ্ত নয়।

এক মাস আগে চট্টগ্রাম নগরীর ফিরোজ শাহ এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় একজন চিকিৎসক নিহত হন। চিকিৎসক কোরবান আলীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ৫ এপ্রিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। তিনি তার ছেলেকে কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে এসে নিজেই হামলার শিকার হন।

এই ঘটনায় নগরীর আকবর শাহ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামি উল্লিখিত কিশের গ্যাংয়ের নেতা গোলাম রসুল ওরফে নিশান। মামলা হওয়ার কয়েকদিন পরই ওই নিশান আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। পুলিশ এদের কিছু বলতে পারছে না, কারণ এরা প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নিশানের নামে কিশোর গ্যাংটির নাম হয়েছে ‘নিশান গ্রুপ’। এই দলে প্রায় ৩০ জন রয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মে সম্পৃক্ত। নিশান বয়সে যুবক, ৩৬ বছর বয়স। তবে তার দলের অন্যান্য অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। কাজেই প্রচলিত আইনি সংজ্ঞায় তারা কিশোর। এরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, দোকানপাট, যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে নিয়মিত। এদের একটি টর্চার সেলও দীর্ঘদিন ধরে ছিল। এখানে লোকজন ধরে এনে নির্যাতন করে টাকা আদায় করা হতো।

টর্চার সেলটি থানা থেকে বেশি দূরে নয়। কিন্তু পুলিশ টর্চার সেল সম্পর্কে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে পুলিশ বলেছে, কেউ অভিযোগ করেনি, তাই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের কেন ধরা হচ্ছে না, জানতে চাইলে পুলিশ বলেছে ওরা পলাতক। অথচ স্থানীয় লোকজন বলছেন পলাতকরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মামলাটি থানা পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী নিশান গ্রুপ ছাড়াও ওই এলাকায় আরও ছয়টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। তারাও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এদেরও কিছু বলা যায় না। কারণ এই ‘কিশোররা’ বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় থাকে, প্রভাবশালী বড় ভাইদের জন্য কাজ করে।

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও আশপাশের এলাকায়ও কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এর মধ্যে খবরের শিরোনাম হয়েছে পটিয়ার ‘জুলো বাহিনী’। এই গ্যাংয়ের নেতা দুর্ধর্ষ জুলো চৌধুরী, বয়স ৩৬। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, জুলো বাহিনীর সদস্য প্রায় দেড়শ। এদের মধ্যে ১৫-১৬ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়সী লোকও রয়েছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ সব ধরনের অপরাধ এরা করে। খুনের অভিযোগও আছে এদের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায় ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজ দলের একজনকে খুন করার পর জুলো চৌধুরী পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত চলছে। ঢাকা মহানগরীর প্রায় সব ওয়ার্ডে এক বা একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব আছে। মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায়ই বেশি। সর্বত্র একই চিত্র। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাÑ সবই এরা করে। খুনের ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থে কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। এমন অভিযোগ তো আছেই।

কিশোর গ্যাং নামের অপরাধীচক্র এ দেশে গড়ে ওঠে প্রায় এক দশক আগে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এদের তৎপরতা। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অপরাধীচক্রের সদস্যদের অধিকাংশ ১৮ বছরের কম বয়সী, এ কারণেই এরা কিশোর গ্যাং উপাধি পেয়েছে। তবে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যও প্রতিটি দলে কমবেশি থাকে। বয়সীদের হাতেই নেতৃত্ব থাকে।

২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে যখন করোনাকালের বিপর্যয় শুরু হয়, তখন সারাদেশ অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়। স্কুল-কলেজ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাকালে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বৃদ্ধি পায় ব্যাপকভাবে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রধানত নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরাই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধচক্রে ঢুকে পড়েছে। তারা আর বের হয়ে আসতে পারেনি। উচ্চবিত্ত বা ধনী পরিবারের কিছু কিশোর-তরুণও এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূলত মাদকের টানে। এর পর মাদক ব্যবসা ও অন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব ও ক্রমবর্ধমান তৎপরতার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন মহলকে দায়ী করেন। প্রভাবশালীরা কিশোর গ্যাং সদস্যদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করেন বলেই তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অপরাধী কিশোরদের মাথার ওপর তথাকথিত ‘বড় ভাইরা’ না থাকলে ওরা এত সাহস পেত না।

কিশোর গ্যাং এখন একটি সামাজিক ব্যাধি। এটা ক্রমেই ছড়াচ্ছে। এর কি কোনো প্রতিকার নেই? অবশ্যই আছে। অপরাধ দমন করাই বড় ওষুধ। এজন্য কঠোর আইন প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রচলিত কিশোর অপরাধ আইন বর্তমান সময়ে আর কার্যকর নয়। এই আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করতে হবে।

ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, তারা কিশোর বলে গণ্য হবে এবং কিশোর অপরাধ আইনে তাদের বিচার হবে। কিশোর অপরাধীদের জেল হয় না। তাদের সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। সেখানে কিশোর অপরাধীরা আদর-যত্নে থাকে, তাদের সৎপথে থাকার জন্য উপদেশ-পরামর্শ দেওয়া হয়। মেয়াদশেষে কিশোর অপরাধীরা সংশোধনাগার থেকে বের হয়ে আসে। এদের অনেকে ভালো হয়ে নিজ পরিবারে ফিরে গেলেও বাস্তবে দেখা যায় অধিকাংশই কিশোর গ্যাং বা অপরাধ জগতে ফিরে গেছে। সংশোধনাগার কিশোর অপরাধীদের সংশোধন করতে ব্যর্থ হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে।

এমনো দেখা গেছে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি খুন বা ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িত। এদেরও সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। এটা কি ন্যায়বিচার? যে খুন করতে পারে, তাকে খুনের শাস্তি পেতে হবে। বয়স যাই হোক। গুরুতর অপরাধের জন্য লঘুদণ্ড নয়, গুরুদণ্ড দিতে হবে। তা হলেই অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়ে কিশোর অপরাধ দমন করা যাবে না। এজন্য কিশোরদের বয়সের সীমা পরিবর্তন করতে হবে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন ১৮ বছর নয়, ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর বলে গণ্য করা যেতে পারে। তা হলে তরুণ অপরাধীরা বয়স ১৮ বছরের কম দেখিয়ে শাস্তি এড়াতে পারবে না। কিশোর হিসেবে গণ্য করার বয়স কত হবে সেটা নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঠিক করবেন। তবে মনে রাখা দরকার, এই প্রশ্নে নমনীয়তার সুযোগ নেই। কিশোর অপরাধ দমনে প্রচলিত আইন পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বড় ভাইদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এটা রাজনৈতিক দল ও সরকারের দায়িত্ব। লেখক মোঃ এম এম ফয়েজ উল্লাহ পাঠান প্রধান নির্বাহী সম্পাদক ।

0Shares

Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/dailyam2/public_html/wp-includes/functions.php on line 6078

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© Daily Amar Songram.
Theme Customized By BreakingNews